ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সরাইল বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বর এলাকায় প্রতিদিনই সকাল থেকে দীর্ঘ যানজট দেখা দিচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে শুরু হয় যানজট, দুপুরে বৃষ্টির কারণে তা আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মহাসড়কের উন্নয়নকাজের ধীরগতি, ফুটপাত না থাকা, দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বরে প্রতিদিন যানজটের সৃষ্টি হয়। সরাইল বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বর এলাকায় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলছে ধীরগতিতে।
অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য
বিশ্বরোড মোড়ের পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ পাশে রয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ড। এ ছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩৪ কিলোমিটার অংশে অবাধে চলাচল করছে অবৈধ ব্যাটারিচালিত তিন চাকার রিকশা, ট্রাক্টর, ভ্যান ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এসব যানবাহনের চালকেরা অদক্ষ এবং কোনো নিয়মনীতি মানেন না।
যানজটের বিস্তৃতি
মঙ্গলবার সকাল থেকে শুরু হওয়া যানজট দুপুর ১২টার মধ্যে বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বরের দুই দিকে চার কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। বৃষ্টির পর বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বরের অসংখ্য গর্তে পানি জমে যায়, যানবাহন চলাচলের গতি কমে যায় এবং যানজট আরও দীর্ঘ হতে থাকে। দুপুর ১২টার পর সরাইল উপজেলার শান্তিনগর থেকে বিশ্বরোড মোড়, কুট্টাপাড়া মোড় হয়ে ইসলামাবাদ পর্যন্ত ছয়-সাত কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট বিস্তৃত হয়। যানজট ছড়িয়ে পড়ে কুমিল্লা-সিলেট ও সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কেও।
ভোগান্তি চরমে
বিশ্বরোড মোড়টি ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রাম-কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের সংযোগস্থল। অনেক যাত্রীকে দিক পরিবর্তনের জন্য এখানে এসে নামতে হয়। এখানে নেই কোনো ফুটপাত। মানুষ এখানে এসে ভোগান্তিতে পড়েন। সড়কে নেমে কাদাপানি পার হতে হয়। অনেক নারী-পুরুষ, শিশু ও শিক্ষার্থীদের কাদাপানি মাড়িয়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।
চালকদের দুর্দশা
সিলেট থেকে ঢাকাগামী পণ্যবাহী ট্রাকচালক আলিম মিয়া মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বর এলাকায় বলেন, ‘মাল নিয়া এইখানে আইলেই মনডা খারাব অইয়া যায়। গাড়ি নিয়া ঠিকভাবে যাইতে ফারি না।’ ঢাকা থেকে সিলেটগামী বাসচালক আজম খান বলেন, ‘আমাদের দুর্দশা দেখার কেউ নাই। এইখানে পৌঁছালেই সব সমস্যা শুরু হয়।’
উন্নয়নকাজের ধীরগতি
সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ), প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় হয়ে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ কাজ চলছিল সাত-আট বছর ধরে। শুরু থেকেই কাজটি চলছিল ধীরগতিতে। এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পালাবদলের পর একাধিকবার কাজ বন্ধ হয়েছে। দেড়-দুই বছর ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মহাসড়কের ১০-১৫ কিলোমিটার অংশে যানজট প্রতিদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু তাহের দেওয়ান বলেন, ‘চলমান ধীরগতির উন্নয়নকাজ আর যানবাহনের চালকদের নিয়মনীতি না মানার কারণে এখানে প্রতিদিন সমস্যা হচ্ছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমরা চেষ্টা করছি।’



