৪৮ ঘণ্টা পরও শূন্যরেখায় আটকে থাকা সুমি-বেলাল দম্পতি, সিদ্ধান্তহীনতায় দুই দেশ
৪৮ ঘণ্টা পরও শূন্যরেখায় আটকে থাকা সুমি-বেলাল দম্পতি

৪৮ ঘণ্টা পার, শূন্যরেখায় আটকে থাকা দম্পতি

৪৮ ঘণ্টা পার হলেও এখনও দুই শিশু সন্তান নিয়ে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পুশইন চেষ্টার শিকার সুমি আক্তার-বেলাল হোসেন দম্পতি। বিএসএফ-বিজিবির অনড় অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ কিংবা ভারত কোনও রাষ্ট্রেই তাদের স্থায়ী ঠাঁইয়ের সিদ্ধান্ত হয়নি।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই দম্পতি ও তাদের দুই শিশুসন্তানসহ ৬ নাগরিক গয়টাপাড়া সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে অবস্থান করছিলেন। তাদের ঘিরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা অতন্দ্র পাহারায় রয়েছেন।

পুশইন চেষ্টার ঘটনা

এর আগে গত রবিবার (১৪ জুন) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তপথে নারী-শিশুসহ ৬ জন এবং ইজলামারী সীমান্তপথে আরও ৩ জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। কাঁটাতারের এপারে বাংলাদেশ প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হলেও বিজিবি এবং স্থানীয় গ্রামবাসীর বাধায় তাদেরকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে পাঠাতে পারেনি বিএসএফ। এখনও নারী-শিশুসহ ভুক্তভোগীরা সীমান্তের শূন্যরেখার কাছে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সীমান্তের দৃশ্য

গয়টাপাড়া সীমান্তে গিয়ে দেখা গেছে, সীমান্তের শূন্যরেখার একদিকে বিএসএফ, আরেকদিকে বিজিবি। মাঝখানে দুই শিশু সন্তান নিয়ে অসহায় বসে আছেন সুমি আক্তার-বেলাল হোসেন দম্পতি। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি-তাপদহ সয়ে আজ তৃতীয় দিনের মতো এভাবে বসে আছেন তারা। বাংলাদেশের স্থানীয় বাসিন্দারা মাঝে মাঝে তাদের কাছে গিয়ে কখনও পানি আবার কখনও খাবার সরবরাহ করছেন। দুই শিশুর মায়ায় এগিয়ে যাচ্ছে গ্রামের শিশুরাও।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিশুদের সুস্থতা নিয়ে শঙ্কা

এদিকে প্রচণ্ড গরম আর বৈরি আবহাওয়ায় দুই শিশু সন্তানের সুস্থতা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সুমি-বেলাল দম্পতি। সন্তানদের কথা বিবেচনা করে তাদের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে দুই রাষ্ট্রের সরকারের প্রতি অনুরোধ তাদের।

শিশু সন্তানদের জীবন বাঁচাতে আকুতি জানিয়ে মা সুমি আক্তার বলেন, ‘কোন দেশে নেবেন নেন, কিন্তু এভাবে ফেলায় রাখিয়েন না। গরমে অসুস্থ হয়ে বাচ্চাগুলা মরে যাবে। আমরা বাঁচতে চাই।’ ‘আমার শিশু সন্তানরা অসুস্থ হয়ে গেছে, তাদের চিকিৎসা করা দরকার। ঠিকমতো খাবারও খাওয়াতে পারছি না। ওদেরকে কীভাবে বাঁচাই! আমরা বাঁচতে চাই।’

দম্পতির দাবি

সুমি আক্তার ও বেলালের দাবি, তারা বাংলাদেশের ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কংশেরকুল গ্রামের বাসিন্দা। কয়েক মাস আগে সিলেট সীমান্তপথে তারা ভারতে পাড়ি জমান। পরে বিএসএফ তাদের ধরে নিয়ে গত রবিবার ভোরে সীমান্তের কাঁটাতার পার করে দেয়। কিন্তু বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেননি।

বিজিবির বক্তব্য

বিজিবি জানায়, বিএসএফ সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে রৌমারীর দুই সীমান্তপথে ৯ জনকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। ঠেলে দেওয়া ব্যক্তিরা কাঁটাতারের এপারে শূন্যরেখার কাছে ভারতীয় ভূখণ্ডে অবস্থান করলেও তাদের ফেরত নেয়নি বিএসএফ। বিজিবিও তাদেরকে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেয়নি।

বিজিবি আরও জানায়, পুশইন চেষ্টার পরপর রবিবার দুপুরে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। তবে কোনও সিদ্ধান্ত ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়। ঠেলে দেওয়ার ব্যক্তিরা বাংলাদেশি কি না তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।

বিজিবির ভাষ্য, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুযায়ী এভাবে কাউকে ঠেলে দিতে পারে না বিএসএফ।

বিজিবি ৩৫ ব্যাটালিয়নের গয়টাপাড়া ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঠেলে দেওয়া ব্যক্তিরা শূন্যরেখার কাছে পূর্বের অবস্থানেই আছেন। গরমে তাদের বিশেষ করে দুই শিশুর কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। রবিবার কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হলেও কোনও সুরাহা হয়নি। এখন পর্যন্ত (মঙ্গলবার দুপুর) নতুন কোনও নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। দিন-রাত ওই ৬ জনকে ঘিরে দুই প্রান্তে পাহারা দিচ্ছে বিজিবি ও বিএসএফ। এলাকাবাসীও সহায়তা করছে।’