কুমিল্লায় চর দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১৬
কুমিল্লায় চর দখল নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১৬

কুমিল্লায় চর দখলকে কেন্দ্র করে মেঘনার আলীপুর ও আলীপুর গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে তিতাসের চরকাঁঠালিয়া গ্রামে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুপক্ষের দিনভর সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন আহতের খবর পাওয়া গেছে। সোমবার (১৫ জুন) বেলা ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত এই সংঘর্ষ চলে। পরে দুই থানার পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

ঘটনার পটভূমি

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মেঘনা নদীর একপাশে তিতাস উপজেলা ও আরেক পাশে মেঘনা উপজেলা। তিতাসের মজিদপুর ইউনিয়নের চরকাঁঠালিয়া গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় মেঘনা উপজেলার বিনতপুর গ্রাম। চরকাঁঠালিয়া ও বিনতপুর গ্রামের মাঝামাঝি ও এর আশেপাশের চর রয়েছে। গত ১২ থেকে ১৩ বছর ধরে ওই জায়গার মালিকানা নিয়ে উভয় উপজেলার দুই গ্রামবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে।

হামলার বিবরণ

সোমবার হঠাৎ চরটি দখল করার জন্য মেঘনা উপজেলার আলীপুর গ্রাম থেকে প্রায় ১০টি ট্রলারযোগে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লোকজন এসে চরকাঁঠালিয়ায় হামলা চালায় এবং লালপতাকা স্থাপন করে। এসময় চরকাঁঠালিয়া গ্রামের লোকজন বাঁধা দিলে সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। পরে ওই দুই উপজেলার পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় তিতাসের ১০জন এবং মেঘনার ৬ জন আহত হয়েছে। এদিকে বিকেল সাড়ে ৪টায় তিতাসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানিয়া আক্তার লুবনা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় প্রতিনিধির বক্তব্য

তিতাসের চরকাঁঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দা মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য (মেম্বার) মো. শাহআলম জানান, চরটি সরকারের খাস খতিয়ানভুক্ত ছিল। ১৩ থেকে ১৪ বছর আগে আমরা সরকারের কাছ থেকে গ্রামের লোকজন লিজ নিয়েছি। কিন্তু এপাড়ে থাকা মেঘনার বিনতপুর গ্রামের লোকজন একই উপজেলার নদীর ওই পাড়ের আলীপুর গ্রামের লোকজনকে চর দখল করতে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের প্রায় ১৫-১৬জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে আমরা তিতাসের ১০ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়েছি। মেঘনার আলীপুর ও বিনতপুর গ্রামের লোকজন তিতাসের চরকাঁঠালিয়া গ্রামে হামলা চালিয়ে ৯-১০টি বসতঘর ভাঙচুর করেছে এবং খেয়াঘাটে থাকা একটি মুদি দোকান লুটপাট করে মালামাল নিয়ে গেছে।

পুলিশের বক্তব্য

তিতাস থানার ওসি মো. মমিনুর ইসলাম জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় খরব পেলে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠানো হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় পরবর্তীতে আরও অতিরিক্ত পুলিশ পাঠানো হয়। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহযোগিতায় বিকালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ক্ষয়-ক্ষতি ও আহত লোকদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ভূমি কর্মকর্তার মন্তব্য

তিতাস উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানিয়া আক্তার লুবনা জানান, মেঘনা নদীর এপাশে অর্থাৎ তিতাস উপজেলা অংশে যে চর রয়েছে এটি মূলত সরকারের খাস খতিয়ানভূক্ত জমি। চরটির দখল নিয়ে দুই উপজেলাবাসীর সংঘর্ষের ঘটনা জানার পর আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।