কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে শূন্যরেখায় অবস্থান করা পুশ ইন চেষ্টার শিকার ১২ জনকে ভারতের ভেতরে নিয়ে গেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। আজ সোমবার পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বেলা ১১টার দিকে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়। দীর্ঘ ৭৮ ঘণ্টা পর ওই ১২ জনের দুর্বিষহ জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বিজিবি অধিনায়কের বক্তব্য
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে কুষ্টিয়ার আওতাধীন সীমান্তবর্তী সব এলাকা শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত
গত শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। তাঁদের মধ্যে চারটি শিশু আছে। তবে বিজিবির সদস্য ও সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা তাঁদের প্রবেশ ঠেকিয়ে দেন।
এরপর প্রথম দফায় পতাকা বৈঠকে বিএসএফ জানায় যে তারা যাচাই করছে ওই ব্যক্তিরা তাদের দেশের নাগরিক কি না। নাগরিক হিসেবে শনাক্ত হলে তাঁদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তবে বিজিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, তাঁরা পরিচয় যাচাই করছেন না।
দুর্ভোগের তিন দিন
এভাবে দুই দেশের মধ্যে কঠোর অবস্থান চলতে থাকে। এতে টানা তিন দিন চরম দুর্ভোগে পড়েন ওই ১২ জন। একপর্যায়ে তাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। খাবারসহ নানা সমস্যার মুখে পড়েন। স্থানীয় বাংলাদেশি বাসিন্দারা কৌশলে তাঁদের কাছে কিছু খাবার পৌঁছে দেন। দিন-রাত কাটে পাটখেতের আলে।
পতাকা বৈঠকের সিদ্ধান্ত
আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সীমান্তের ১৪৮/৩-এস পিলারের পাশে, যেখানে ওই ১২ জন অবস্থান করছিলেন, বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে আবারও একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের শূন্যরেখা থেকে নিজেদের ভূখণ্ডের ভেতরে নিয়ে যান।
পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির উপ-অধিনায়ক নুরুল হুদার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। বিএসএফের পক্ষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রানীনগর কোম্পানি কমান্ডার এসি সুনীল কুমার যাদবের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিল।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল প্রথম আলোকে বলেন, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্তের পর বিএসএফ তাদের বেলা ১১টার দিকে কাঁটাতারের ভেতরে নিয়ে গেছে।



