সাভারের আশুলিয়ায় কুরিয়ার গাড়িতে আগুন, মালামাল পুড়ে গেছে
আশুলিয়ায় কুরিয়ার গাড়িতে আগুন, মালামাল পুড়ে গেছে

সাভারের আশুলিয়ায় কুরিয়ার গাড়িতে আগুন: মালামাল পুড়ে গেছে

ঢাকার সাভারের আশুলিয়া এলাকায় একটি কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়িতে আগুন লেগে মালামাল পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিটের চেষ্টায় প্রায় এক ঘণ্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ঘটনার সময় ও স্থান

শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাত সাড়ে ৭টার দিকে আশুলিয়ার নবীনগর চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল এলাকায় এই আগুনের ঘটনা ঘটে। চলন্ত অবস্থায় থাকা কাভার্ডভ্যানটি থেকে হঠাৎ আগুন বের হতে দেখা যায়।

আগুনের সূত্রপাত ও প্রতিক্রিয়া

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তাদের বর্ণনা অনুযায়ী, ব্যাটারিচালিত রিকশার কয়েক যাত্রী প্রথমে চলন্ত কাভার্ডভ্যানের ভেতর থেকে আগুনের বের হতে দেখেন। তারা দ্রুত গাড়ির চালককে সতর্ক করে থামাতে বলেন। চালক গাড়ি থামিয়ে পেছনের দরজা খুলে ভেতরে আগুন দেখতে পান।

এ সময় চালকসহ আশপাশের লোকজন পানিয়ে ছিটিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পাশাপাশি তারা ঢাকা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ডিইপিজেড) ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনকে বিষয়টি জানান।

ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা

ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রথমে ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরে আরেকটি ইউনিট যোগ দিয়ে মোট তিনটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে।

ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার প্রণব চৌধুরী বলেন, "আগুনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয়। প্রথমে দুটি ইউনিট কাজ শুরু করলেও পরে আরেকটিসহ মোট তিনটা ইউনিট দিয়ে প্রায় ১ ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।"

ক্ষয়ক্ষতি ও কারণ

আগুনে কাভার্ডভ্যানের ভেতরে থাকা অধিকাংশ মালামাল পুড়ে গেছে। কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ি হওয়ায় এতে মোটরসাইকেল, বইপত্র, চাল-ডাল, মুড়িসহ নানা ধরণের মালামাল ছিল।

প্রণব চৌধুরী আরও বলেন, "কাভার্ডভ্যানের ভেতর থেকেই আগুনটা লেগেছে। তবে আগুন লাগার কারণ তদন্তের আগে বলা সম্ভব নয়।"

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা

প্রত্যক্ষদর্শী ফরজ আলী বলেন, "আমরা বাইপাইল থেকে আসতেছিলাম দেখি গাড়ির ভেতরে আগুন। পরে অটো (ব্যাটারি চালিত রিকশা) টান দিয়া আইসা ওদের থামায়া কইছি যে তোমাদের গাড়িতে আগুন লাগছে। পরে ওরা নাইমা দেখে যে আগুন লাগছে। পানি দিয়া আগুন নিভানোর চেষ্টা করছি। পরে ফায়ার সার্ভিস আইসা নিভাইছে।"

কাভার্ডভ্যানের চালক এমদাদ বলেন, "কেরানীগঞ্জ থেকে চন্দ্রার উদ্দেশে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি ধোঁয়া বের হইতেছে, পরে গাড়ি চাপায়া ডালা খুলে দেখলাম আগুন লাগছে। পরে ফায়ার সার্ভিস আসছে। আমরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছি পারি নাই। ফায়ার সার্ভিস আইসা আগুন নিভাইছে। গাড়িতে লোকজনের পার্সেল ছিল, আর কিছু না।"

পরিবহন ব্যবস্থায় প্রভাব

এ ঘটনায় নবীনগর থেকে চন্দ্রা মহাসড়কের চন্দ্রামুখী লেনে প্রায় এক ঘণ্টা যানচলাচল বন্ধ ছিল। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে যানচলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল তদন্ত করে আগুন লাগার সঠিক কারণ নির্ণয়ের চেষ্টা করছেন। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গাড়ি মালিক ও চালকদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।