ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, যাত্রীদের দুর্ভোগ
ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের কারণে চলাচলকারী যাত্রী, চালক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া এলাকায় এই যানজটের সৃষ্টি হয়, যা প্রায় ৩৪ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত ছিল।
দুর্ঘটনা ও বিকল ট্রাকের প্রভাব
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ১টার পর বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় ঘন কুয়াশার মধ্যে গ্রিনলাইন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস একটি পণ্যবাহী ট্রাককে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চালক ও তাঁর সহকারী গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর বাসটি মহাসড়কের মাঝখানে আটকে থাকায় রাত থেকেই যানজট শুরু হয়।
এরপর আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় গোলচত্বরের দক্ষিণ পাশে একটি পণ্যবাহী ট্রাক গর্তে পড়ে বিকল হয়ে যায়। এই ঘটনা যানজটকে আরও তীব্র করে তোলে, যা কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক এবং সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে।
যাত্রীদের ভোগান্তি
দীর্ঘ যানজটের কারণে শত শত নারী, পুরুষ ও শিশুকে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। মহাসড়কের ধুলাবালিতে হাঁটাচলা কষ্টকর হয়ে পড়ে। সরাইল উপজেলার বাসিন্দা রওশন আলী, যিনি অসুস্থ মাকে নিয়ে জেলা সদরে যাচ্ছিলেন, বলেন, "সরাইল কুট্টাপাড়া মোড় থেকে বিশ্বরোড মোড়ের দূরত্ব এক কিলোমিটারের কম, কিন্তু এই অল্প পথ পাড়ি দিতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লাগছে।"
সিলেট থেকে ঢাকাগামী ট্রাকচালক মো. শামীম দুপুরে জানান, "গতকাল রাত ১টার দিকে মাধবপুর এলাকায় যানজটে পড়ি। এখন সরাইলের কুট্টাপাড়ায় আছি। ২৩ কিলোমিটার আসতে ১৩ ঘণ্টা লেগেছে। আজ সন্ধ্যায় ঢাকা পৌঁছাতে পারব কি না জানি না।"
পুলিশের পদক্ষেপ ও আশাবাদ
সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহাঙ্গীর আলম বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জানান, পুলিশের চেষ্টায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে সন্ধ্যার মধ্যে মহাসড়ক পুরোপুরি যানজটমুক্ত হবে।
বেলা দুইটার পর কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক ও সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত যানজট অব্যাহত ছিল।
