সুন্দরবনে জলদস্যুদের হাতে তিন জেলে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি
সুন্দরবনে জলদস্যুদের হাতে তিন জেলে অপহরণ

সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় জলদস্যুদের হামলায় তিন জেলে অপহৃত

বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন সংলগ্ন কটকা এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারসহ তিন জেলে অপহরণের শিকার হয়েছেন। স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠনের দাবি, জলদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনী তাদের তুলে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করেছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী এই ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।

অপহৃত জেলেদের পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ

অপহৃত জেলেরা হলেন পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের রুহিতা এলাকার বাসিন্দা রাজু (পিতা: আব্দুল মান্নান), মাহবুব হোসেন (পিতা: আব্দুল মালেক) এবং রাজন। জানা যায়, কয়েকদিন আগে পাথরঘাটার মাসুম মিয়ার একটি নামবিহীন ইঞ্জিনচালিত ছোট ট্রলার নিয়ে এই তিন জেলে সুন্দরবন এলাকায় বেহুন্দি জাল দিয়ে মাছ শিকারে যান।

শনিবার দিবাগত রাতে কটকা এলাকায় মাছ ধরার সময় জলদস্যুরা তাদের ট্রলারসহ অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে ট্রলার মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। গোলাম মোস্তফা চৌধুরী অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মুক্তিপণ পরিশোধ না করায় অপহৃতদের দফায় দফায় মারধর করা হচ্ছে।

জলদস্যুদের পূর্ববর্তী অপকর্মের ইতিহাস

গোলাম মোস্তফা চৌধুরী আরও জানান, এর আগে একই জলদস্যু চক্র পাথরঘাটার ফোরকান মাঝি ও সিদ্দিকসহ আট জেলেকে অপহরণ করেছিল। পরে তারা মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত হন। এই ঘটনা জলদস্যুদের ক্রমাগত সক্রিয়তা এবং স্থানীয় মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তাহীনতার চিত্র তুলে ধরছে।

কোস্টগার্ডের প্রতিক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিক অভিযোগের অবস্থা

এ বিষয়ে কোস্টগার্ডের দক্ষিণ জোনের এক মিডিয়া কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে গণমাধ্যমকে জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তাদের কাছে পৌঁছেনি। তিনি উল্লেখ করেন, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয় সূত্রগুলো জলদস্যুদের ক্রিয়াকলাপের তীব্রতা এবং জেলেদের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

এই অপহরণ ঘটনা সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় জলদস্যুদের উপস্থিতি এবং তাদের সক্রিয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানানো হচ্ছে।