চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে চসিকের পাওনা ২৬৪ কোটি টাকা হোল্ডিং ট্যাক্স এখনো পরিশোধ করা হয়নি। তিনি বলেন, ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে শহরের রাস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কিন্তু আমরা ক্ষতিপূরণ নয়, বরং ন্যায্য ট্যাক্স চাই।
প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চুক্তি নবায়ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য
সোমবার (১১ মে) নগরীর র্যাডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলে চট্টগ্রাম শহরে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে একটি চুক্তি নবায়ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মেয়র। তিনি সেখানে বন্দরের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, বন্দরের কাছ থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের জন্য নৌ পরিবহন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবকে জানানো হলেও বন্দর চেয়ারম্যান টাকা পরিশোধ করেননি।
ডোর টু ডোর প্রকল্প ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
মেয়র তার বক্তব্যে ডোর টু ডোর প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, চট্টগ্রাম শহরে প্রতিদিন ২ হাজার ২০০ টন ময়লা সংগ্রহ করা হয়, কিন্তু আরও এক হাজার টন খাল-নালায় ফেলা হয়। তিনি বলেন, পাশের বাড়ি-ঘর ও স্থাপনা থেকে বর্জ্য খালে ফেলা হয় এবং বিভিন্ন যানবাহন থেকে রাস্তায় ময়লা ফেলা হয়।
তিনি বলেন, গণসচেতনতা না বাড়লে যত টাকা ব্যয় করা হবে, তা বৃথা যাবে। শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহের জন্য ডোর টু ডোর পদ্ধতির কোনো বিকল্প নেই।
ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, বর্জ্য সংগ্রহের জন্য টাকা নেওয়া নিয়ে প্রচার শুরু হয় যে সিটি করপোরেশন টাকা নিচ্ছে, অথচ এ কাজে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এজেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ডোর টু ডোর প্রকল্পের জন্য সিটি করপোরেশনের লোকবল ১ হাজার ৮০০ জন, কিন্তু এক ওয়ার্ডে গড়ে ২ লাখ লোকের জন্য ৪০ জন সংগ্রহকারী যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ট্যাক্স নিই, বাসা থেকে আনার জন্য নয়। তবে এটা বোঝানো কঠিন হচ্ছে।
বেসরকারি কোম্পানিকে এগিয়ে আসার আহ্বান
মেয়র চট্টগ্রাম নগরীতে গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
প্লাস্টিক বর্জ্য প্রকল্পের চুক্তি নবায়ন
চসিক সূত্র জানায়, ২০২২ সাল থেকে চসিকের সঙ্গে নগরীতে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ ও রিসাইক্লিং নিয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ ও ইয়ং পাওয়ার ইন স্যোশাল অ্যাকশন (ইপসা)। সোমবার প্রকল্পটির কার্যক্রম চলমান রাখতে চুক্তি নবায়ন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ইপসা’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান, ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুহুল কুদ্দুস খান এবং ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স, পার্টনারশিপস ও কমিউনিকেশনস পরিচালক শামিমা আক্তার।



