ইরানি গণমাধ্যমের দাবি: আয়াতুল্লাহ খামেনির স্ত্রী মনসুরেহ বাগেরজাদেহ গুরুতর আহত, তবে জীবিত
খামেনির স্ত্রী জীবিত, গুরুতর আহত: ইরানি গণমাধ্যম

ইরানি গণমাধ্যমের দাবি: খামেনির স্ত্রী জীবিত, গুরুতর আহত অবস্থায়

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, সদ্যপ্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্ত্রী মনসুরেহ খোজাস্তেহ বাগেরজাদেহ বেঁচে আছেন, তবে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরানি বার্তা সংস্থা ফার্স এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করে, আগে ছড়িয়ে পড়া তার মৃত্যুর গুঞ্জনকে ভুল বলে উল্লেখ করেছে।

হামলার পর মৃত্যুর গুঞ্জন ও বাস্তবতা

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে খামেনির বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সমন্বিত বিমান হামলায় আলী খামেনি নিহত হন। এই হামলায় তার স্ত্রীও নিহত হয়েছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। ইরানের কয়েকটি গণমাধ্যম এমনকি জানিয়েছিল যে, হামলায় পাওয়া আঘাতের কারণে বাগেরজাদেহ মারা গেছেন অথবা কোমায় আছেন।

ফার্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক আহত হওয়ার খবর ভুলভাবে ব্যাখ্যা করার কারণেই মৃত্যুর খবর ছড়িয়েছিল। সংস্থাটি নিশ্চিত করেছে যে, বাগেরজাদেহ হামলা থেকে বেঁচে গেলেও তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন এবং আগের খবরগুলো সঠিক ছিল না।

নতুন নেতার বিবৃতি ও প্রশ্ন

বৃহস্পতিবার বাগেরজাদেহের মৃত্যু নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন ওঠে, যখন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার প্রথম প্রকাশ্য বিবৃতিতে মায়ের মৃত্যুর বিষয়ে কোনো উল্লেখ করেননি। মোজতবা খামেনি বাবার মৃত্যুর পর দেওয়া প্রথম লিখিত বার্তায় বলেন, ‘আপনার চলে যাওয়া মানুষের হৃদয়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে… অনেকেই আপনার প্রকৃত মূল্য বুঝতে পারেনি।’

তিনি আরও জানান, বিমান হামলার পর তিনি নিজ চোখে বাবার মরদেহ দেখেছেন এবং তখন তার বাবার হাত মুষ্টিবদ্ধ ছিল, যা তিনি শেষ মুহূর্তের প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন।

মনসুরেহ বাগেরজাদেহের ব্যক্তিগত জীবন

প্রসঙ্গত, মাশহাদে একটি শিয়া পরিবারে জন্ম নেওয়া মানসুরেহ বাগেরজাদেহ ১৯৬৪ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে আলী খামেনিকে বিয়ে করেন। তাদের ছয়টি সন্তান রয়েছে। রাজনৈতিক সংগ্রামের কঠিন সময়, কারাবাস ও নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে স্ত্রীর সমর্থনের কথা অতীতে বহুবার উল্লেখ করেছিলেন খামেনি।

হামলার পর ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ

আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরান প্রতিশোধ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মোড় নিয়েছে।

ফার্স নিউজের এই দাবি ইরানে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষত যখন পূর্বের সংবাদমাধ্যমগুলো বিপরীত তথ্য পরিবেশন করেছিল। বাগেরজাদেহের বর্তমান স্বাস্থ্য অবস্থা এবং তার চিকিৎসা সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।