বিএনপির নতুন সরকার গঠন: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে তোলপাড়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথগ্রহণের মাধ্যমে দলটি দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থীদের তালিকা
বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জানা গেছে, দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি পদে বেশ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে থাকা ফখরুল ইসলাম বর্তমানে দলীয় নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
- খন্দকার মোশাররফ হোসেন: দলের স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য হিসেবে পরিচিত তিনি। চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া মোশাররফ হোসেন তুলনামূলকভাবে নীরব ও কম বিতর্কিত প্রোফাইলের নেতা বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
- নজরুল ইসলাম খান: তিনি দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে দলের ভেতরে তাকে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে রাখার প্রস্তাবও রয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে।
- আবদুল মঈন খান: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্বে আছেন তিনি। একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেছেন মঈন খান।
এই তালিকার মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম সবচেয়ে জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এদের মধ্য থেকেই একজনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অবস্থান
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পদত্যাগ করতে পারেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২০২৩ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা।
তবে গত ডিসেম্বরে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সব কনস্যুলেট, দূতাবাস ও হাইকমিশনে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি ও ছবি ছিল, যা হঠাৎ এক রাতেই উধাও করে ফেলা হয়। এতে মানুষের কাছে ভুল বার্তা গেছে যে, সম্ভবত তাকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি এতে খুবই অপমানিত বোধ করেছেন বলে জানান।
অন্যদিকে, নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি বলেছিলেন, ‘নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমার দায়িত্ব পালন করে যাওয়া উচিত। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রপতির পদে থাকায় আমি আমার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।’
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
সব মিলিয়ে, বিএনপির নতুন সরকার গঠনের পর রাষ্ট্রপতি পদে কে আসীন হবেন, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। মন্ত্রিপরিষদের শপথের পরপরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্পষ্ট হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বিএনপির নেতৃত্বে নতুন সরকারের কার্যক্রম কীভাবে এগোবে এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া কী রূপ নেবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।
