চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে মারধর, মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের পরিচয়
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মো. রায়হান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায়। অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম মুসাদ্দিকুজ্জামান আল-মামুন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক।
ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একদল শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছাত্রদল নেতা আল-মামুন ও তাঁর অনুসারীদের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এর জেরে তাঁকে গতকাল দুপুরে মারধর করা হয়েছে। রায়হান জানান, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে তাঁকে জোরপূর্বক তুলে স্লুইসগেট এলাকায় নিয়ে যান আল-মামুন ও তাঁর সহযোগীরা। সেখান থেকে পার্শ্ববর্তী ব্রিকফিল্ড এলাকায় নিয়ে গিয়ে তাঁকে মারধর করা হয় এবং মুঠোফোনও ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে আগের মারামারির ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন স্বীকারোক্তিসহ তাঁকে একটি ভিডিও বক্তব্য দিতেও বাধ্য করা হয়।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রায়হান বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতা মামুনের মারামারির ঘটনায় আমি ছিলাম না। এরপরও কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ থেকে আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়েছে। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁরা আমার একটি ভিডিও ধারণ করেন, সেখানে আমাকে মারামারির ঘটনায় আমি ছিলাম এমন স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছে।’
পূর্বের ঘটনা
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় পর্দায় ফুটবল খেলা দেখানোর সময় ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসা ও ধূমপান করার অভিযোগে মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেখার দিশানের সঙ্গে শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মুসাদ্দিকুজ্জামান আল-মামুনের মারামারি হয়। এর জেরে পরদিন ৩০ জুন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের সামনে দিশানসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একদল শিক্ষার্থী ছাত্রদল নেতা মামুনের ওপর হামলা চালান। এ ঘটনার পর শাহজালাল হলে অবরুদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করতে আসা শাখা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক উলফাতুর রহমানের ওপরও ছাত্রদল কর্মীরা চড়াও হন। ঘটনাস্থলে যাওয়া প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও কর্মরত সাংবাদিকদের হেনস্তা করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা।
অভিযুক্তের বক্তব্য
রায়হানকে মারধর ও মুঠোফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা মুসাদ্দিকুজ্জামান আল-মামুন। তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন আগের ঘটনার বিষয়ে জানতে চেয়ে আমি রায়হানের সঙ্গে কথা বলেছি মাত্র। সে সময় আমি একা ছিলাম, সঙ্গে কেউ ছিল না। কোনো মারধর, হুমকি বা ভিডিও বক্তব্য নেওয়ার ঘটনা ঘটেনি।’
ছাত্রদলের অবস্থান
শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘যদি কেউ কোনো অন্যায় করে থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁর বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। আর অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি আমাদের কাছে অভিযোগ দেয়, তাহলে আমরাও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।’
প্রশাসনের পদক্ষেপ
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ‘এক শিক্ষার্থী আমাদের কাছে অভিযোগ দিয়েছে। আমরা অভিযোগ গ্রহণ করছি। ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’



