ভোলায় ভাড়া বাসায় সুমাইয়া আক্তার মিতু (২১) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়েরের পর চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র্যাব)।
গ্রেফতার ও তদন্তের বিবরণ
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-৮ এর ভোলা ক্যাম্প কমান্ডার রওনক জাহান শুভ। এর আগে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতাররা হলেন, মামলার প্রধান আসামি ও গৃহবধূর স্বামী মো. সোহাগ, শাশুড়ি কোহিনুর বেগম এবং ননদ মুক্তা আক্তার।
রওনক জাহান শুভ বলেন, র্যাব-৮ ভোলা ক্যাম্পের সার্বিক দিক নির্দেশনায় এবং র্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি চৌকস আভিযানিক দলের সহযোগিতায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনার দিনই র্যাব-৮ এর ভোলা ক্যাম্পের একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ নিবিড় তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারির পর র্যাব-৮ এবং র্যাব-৭ এর যৌথ অভিযানে আসামিরা গ্রেফতার হয়। গ্রেফতার আসামিদের ভোলায় আনা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভোলা সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে। র্যাব সব সময় নারীর ওপর যেকোনো ধরনের নির্যাতন ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মামলার পটভূমি
গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে ভোলা শহরের উকিলপাড়ায় গোরস্থান মাদরাসা-সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসা থেকে মিতুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. বশির ও আয়েশা খাতুন দম্পতির বড় মেয়ে। পরদিন মিতুর বাবা মো. বশির আহমেদ বাদী হয়ে ভোলা সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পরিবারের দাবি এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
মামলায় গৃহবধূর স্বামী ব্যবসায়ী মো. সোহাগ, শাশুড়ি কোহিনূর বেগম, ননদ লিজা ও মুক্তা বেগমসহ আরও চার-পাঁচজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকেই তারা সবাই আত্মগোপনে ছিলেন। এদিকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর আসল রহস্য উদঘাটন হবে বলে জানান পুলিশ।



