পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে? বিজেপির চার সম্ভাব্য নাম
পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী কে? বিজেপির চার সম্ভাব্য নাম

ভূমিধস বিজয়ের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের লক্ষ্য পূরণ করেছে বিজেপি। এখন সব মহলে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, কে হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? এখন পর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও নাম ঘোষণা করা হয়নি। তবে বিজেপির অন্দরমহলে অন্তত চারটি নাম নিয়ে জোর চর্চা চলছে। প্রতিটি নামের পেছনেই রয়েছে শক্তিশালী সব যুক্তি। কলকাতাভিত্তিক ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।

অমিত শাহর ইঙ্গিত

নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার আগে এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বিজেপি ক্ষমতায় এলে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন? জবাবে তিনি বলেছিলেন, আমি জনগণকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী এমন কেউ হবেন যিনি বাংলায় জন্মেছেন, বাংলায় শিক্ষিত এবং বাংলা ভাষায় সাবলীল।

শপথ গ্রহণ ৯ মে

বিজেপি সূত্রের খবর, আগামী ৯ মে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর পুণ্যলগ্নেই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দৌড়ে এগিয়ে চার মুখ

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মুখ্যমন্ত্রী পদের জন্য বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, উৎপল ব্রহ্মচারী এবং স্বপন দাশগুপ্তর নাম নিয়ে আলোচনা চলছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মমতাকে হারানো শুভেন্দু অধিকারীর পাল্লাই ভারী

বিজেপি শিবিরের একটি বড় অংশ শুভেন্দু অধিকারীর ওপরই বাজি ধরছে। এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, এবারের নির্বাচনে শুভেন্দুই ছিলেন একমাত্র বিজেপি প্রার্থী যিনি দুটি আসনে (নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর) লড়াই করেছেন। একটি আসনে তার প্রতিপক্ষ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২১ সালে তিনি নন্দীগ্রামে মমতাকে হারিয়ে বিরোধী দলনেতা হয়েছিলেন। কলকাতার এক বিজেপি নেতা বলেন, শুভেন্দুদা মমতাকে দুবার হারিয়েছেন, তাই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তার নামের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। দলীয় সূত্র মতে, শুভেন্দু প্রথমে দুটি আসনে লড়তে চাননি, কেবল নন্দীগ্রামেই সীমাবদ্ধ থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অমিত শাহর নির্দেশেই তিনি মমতার খাসতালুক ভবানীপুরে প্রবেশ করেন এবং তাকে পরাজিত করেন। শুভেন্দু নন্দীগ্রামে ১০ হাজারের বেশি এবং ভবানীপুরে ১৫ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। এমনকি তার মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়ও অমিত শাহ নিজে উপস্থিত ছিলেন। ফলে এই বিশাল জয়ের পর শীর্ষ পদের জন্য শুভেন্দুকে এড়িয়ে যাওয়া দলের পক্ষে কঠিন হবে বলেই মনে করছেন রাজ্য নেতৃত্বের একাংশ।

শিক্ষিত মধ্যবিত্তের প্রতিনিধি শমীক ভট্টাচার্য

রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকেও অনেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাইছেন। এর প্রধান কারণ তার পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, চমৎকার বাগ্মিতা এবং দলের সব গোষ্ঠীর মধ্যে সমন্বয় রাখার ক্ষমতা। শমীক রাজ্য সভাপতি হওয়ার পর দলের সংগঠনে বড় পরিবর্তন এনেছেন। কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসলের নির্দেশনায় তিনি পুরনো ও নতুন কর্মীদের মধ্যকার কোন্দল মিটিয়ে সবাইকে এক ছাতার তলায় আনতে সক্ষম হয়েছেন। এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, শমীকদার অগাধ পাণ্ডিত্য ও ভারসাম্যপূর্ণ আচরণ বাঙালি সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য উপযুক্ত। সবচেয়ে বড় কথা, তিনি আরএসএস-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মুখ। আরএসএস-এর সাহায্য ছাড়া এই নির্বাচনে এমন জয় সম্ভব ছিল না।

আরএসএস-এর পছন্দ উৎপল ব্রহ্মচারী

সাধারণ কর্মীদের কাছে খুব বেশি পরিচিত না হলেও আরএসএস এবং বিজেপির শীর্ষ মহলে অত্যন্ত জনপ্রিয় নাম উৎপল ব্রহ্মচারী, যিনি ‘উৎপল মহারাজ’ নামেই পরিচিত। তিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পদ ত্যাগ করে কালিয়াগঞ্জ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এবং নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ৭৬ হাজারেরও বেশি ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। একজন ধর্মীয় নেতা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন সমাজসেবা করেছেন এবং হিন্দু ভোট একাট্টা করতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। তার জয়ের ব্যবধানই প্রমাণ করে এলাকায় তার জনপ্রিয়তা কতটা।

শিক্ষিত সমাজের পছন্দ স্বপন দাশগুপ্ত

তালিকায় চতুর্থ নামটি হলো স্বপন দাশগুপ্ত। তার উচ্চশিক্ষাগত পটভূমি এবং বাংলার শিক্ষিত সমাজের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা তাকে লড়াইয়ে রেখেছে। রাসবিহারী কেন্দ্র থেকে জয়ী স্বপন দাশগুপ্ত একাধারে সাংবাদিক ও লেখক। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি করা এই নেতার পাণ্ডিত্য বাঙালি বুদ্ধিজীবী মহলে সমাদৃত।

চমকের সম্ভাবনা ও আগামী পদক্ষেপ

আলোচনায় আরও একটি নাম রয়েছে। তিনি হলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সঞ্জীব সান্যাল। তবে বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, চমক দেওয়ার ইতিহাস বিজেপির পুরনো। তাই শেষ মুহূর্তে একেবারে নতুন কোনও মুখকেও বেছে নেওয়া হতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে মঙ্গলবার বা বুধবার কলকাতায় পৌঁছাতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। উল্লেখ্য, ২০১৭ সাল থেকেই আরএসএস পশ্চিমবঙ্গে তাদের অবস্থান তৈরির কাজ শুরু করেছিল। সে বছর অখিল ভারতীয় প্রতিনিধি সভায় বাংলাদেশে থেকে আসা হিন্দুদের নাগরিকত্ব এবং রাজ্যের ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। সংঘের এক সূত্রের দাবি, সেই অধিবেশনের পর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে নিবিড় প্রচার শুরু করে আরএসএস, যার ফল মিলেছে এবারের নির্বাচনে।