বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে কৃষক ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় হবে: প্রধানমন্ত্রী
বিদেশে পাচার অর্থ ফিরিয়ে কৃষক-জনগণের কল্যাণে ব্যয়

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে কৃষক ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে বিদেশে পাচার হওয়া কোটি কোটি টাকা দেশে ফিরিয়ে এনে তা কৃষক ও সাধারণ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, এই অর্থ ফ্যামিলি কার্ডকৃষি প্রণোদনার মাধ্যমে সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

গাবতলীতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীর শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলে দেশের কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। আমাদের বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার হলো সেই পাচার হওয়া অর্থ আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা এবং তা কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ব্যবহার করা। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে এই সহায়তা সরাসরি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে।”

কার্ড বিতরণের বিস্তারিত তথ্য

বগুড়ার গাবতলীতে দ্বিতীয় পর্যায়ের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৯১১ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি এপ্রিল মাসের মধ্যেই দেশের আরও ২৩টি উপজেলায় এই কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ক্ষমতায় আসার মাত্র এক মাসের মাথায় গত ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের পরীক্ষামূলক (পাইলটিং) পর্যায় শুরু করেছিল বর্তমান সরকার।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ফ্যামিলি কার্ডের উদ্দেশ্য ও নারী ক্ষমতায়ন

মূলত সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হচ্ছে। নারীদের ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “দেশের প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে আমরা ফ্যামিলি কার্ডের উদ্যোগ নিয়েছি। এই কার্ড মূলত পরিবারের নারী প্রধানদের দেওয়া হচ্ছে। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে নারী ও পুরুষকে সমান তালে কাজ করতে হবে। সরকার সব সময় প্রান্তিক মানুষের পাশে থেকে তাদের উন্নয়নে সহায়তা করে যাবে।”

অনুষ্ঠানের উপস্থিতি ও সরকারের প্রতিশ্রুতি

অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতাকর্মী এবং কার্ডপ্রাপ্ত উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচিকে বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন এবং আগামী দিনে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এই ধরনের জনবান্ধব কর্মসূচি অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন।

  • বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
  • ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
  • কৃষি প্রণোদনার মাধ্যমে কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করা হবে।
  • নারী প্রধানদের হাতে কার্ড তুলে দিয়ে নারী ক্ষমতায়ন জোরদার করা হচ্ছে।
  • ২৩টি উপজেলায় কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে।