সারাদেশে বেহাত হওয়া সরকারি খাস জমি দ্রুত উদ্ধারে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। একই সঙ্গে ভূমিসেবা ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ করতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে পুনরায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলেও তিনি জানান।
খাস জমি পুনরুদ্ধার ও আইনি ব্যবস্থা
মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের তৃতীয় দিনের কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। গত ১৭ বছরের ‘ফ্যাসিস্ট’ আমলের কথা উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, “অতীতে সরকারি সম্পত্তি ও খাস জমি ব্যাপক হারে বেহাত হয়েছে। আমরা সেসব জমি পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি।” তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন নিজস্ব গতিতে চলবে।
রেজিস্ট্রেশন সেবা একই ছাতার নিচে
ভূমি রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “অতীতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনেই ছিল। আমরা পুনরায় আইন, ভূমি এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে একই ছাতার নিচে বা সমন্বিত ব্যবস্থায় আনার চেষ্টা করছি। এটি সম্ভব হলে জনভোগান্তি অনেকাংশেই কমে আসবে।” জমি সংক্রান্ত ঝুলে থাকা মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
১৯ মে ‘ভূমি সেবা মেলা’র উদ্বোধন
ভূমি মন্ত্রী জানান, আগামী ১৯ মে সকাল ১০টায় ভূমি ভবন থেকে দেশব্যাপী ‘ভূমি সেবা মেলা’ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই মেলায় ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে বিভাগীয় পর্যায়ের সকল উইং একযোগে অংশ নেবে। এর লক্ষ্য হলো জনগণকে ভূমিসেবা সম্পর্কে সচেতন করা এবং দালালদের দৌরাত্ম্য থেকে রক্ষা করা।
ডিজিটাল ও ক্যাশলেস ভূমি সেবা
অধিবেশন শেষে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয় এখন প্রায় শতভাগ অটোমেটেড। প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত সব লেনদেন এখন ‘ক্যাশলেস’ বা নগদ লেনদেনবিহীন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় সমস্যার জন্য ২৪/৭ হটলাইন চালু রয়েছে; নাগরিকদের জন্য বিশেষায়িত ‘ভূমি অ্যাপ’ এবং ভূমি ভবনে সেবা কেন্দ্র রয়েছে; হিউম্যান ইন্টারফেয়ারেন্স বা মানুষের হস্তক্ষেপ কমাতে একটি ইন্টিগ্রেটেড সিস্টেম তৈরির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।
প্রতিমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “সিস্টেম ডিজিটাল হলেও যথাযথ প্রচারের অভাবে মানুষ এখনও অনেক সময় বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে হওয়ায় সেখানে কোনও হয়রানি হলে দায়ভার ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওপর এসে পড়ে।” এই বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে জনসচেতনতা তৈরিতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



