মো. শহিদুল ইসলাম (২৮) নামে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ঘোড়ামরা সাগর উপকূল থেকে তাঁর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন তিনি। সোমবার রাত আটটার দিকে লাশটি উদ্ধার করে নৌ পুলিশ।
পরিবারের সন্দেহ
নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, শহিদুলের সাগরের দিকে যাওয়ার কোনো কথা ছিল না। কীভাবে তিনি সাগরে গেলেন, কার সঙ্গে গেলেন এবং কীভাবে উপকূলে তাঁর লাশ ভেসে এল—এসব প্রশ্নের উত্তর জানতে চান তারা। নিহতের ভাই মুক্তাদের মাওলা বলেন, 'গত শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজ শেষে বাসায় ফেরেন শহিদুল। এরপর দুপুরের খাবার সেরে মুঠোফোন নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। রাতে যখন ফিরছিলেন না, তখন মুঠোফোনে ফোন করলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরে পাহাড়তলী থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করি।'
লাশ উদ্ধার ও শনাক্তকরণ
সোমবার সীতাকুণ্ডের সাগর উপকূলে একটি লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে নৌ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে হাসপাতালে গিয়ে পরনের টি-শার্ট ও প্যান্ট দেখে লাশ শনাক্ত করেন তারা। মুক্তাদের মাওলা বলেন, 'লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে কিছু লোক অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে টাকা দাবি করেছিল। আমরা নম্বরগুলো পুলিশকে দিয়েছি।'
নৌ পুলিশের বক্তব্য
কুমিরা নৌ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল ওয়াহেদ জানান, স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন লাশ সাগরে ভেসে উপকূলে আসে। দুই-তিন দিন আগে ওই তরুণ মারা গিয়ে থাকতে পারেন। লাশ অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। তাঁরা লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠান। আপাতত অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যার বিষয়টি উঠে এলে মামলাটি হত্যা মামলায় পরিণত হবে।
পরিবারের পরবর্তী পদক্ষেপ
মুক্তাদের মাওলা বলেন, 'আমার ভাইয়ের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিল না। তিনি রাজনীতিও করতেন না। আমাদের সন্দেহ, তিনি অপরাধীদের পাল্লায় পড়েছিলেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে হত্যা মামলা করব।'



