নোয়াখালী-৬ আসনে বাবা-ছেলের ভোটযুদ্ধ: ছেলে বিজয়ী, বাবা জামানত হারালেন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে এক অনন্য রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সাক্ষী হয়েছে দেশ। এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বিজয়ী হয়েছেন। তবে চমকপ্রদ বিষয় হলো, তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ছিলেন তার নিজের বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক, যিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জামানত হারিয়েছেন।
ভোটের ফলাফল ও জামানত বাজেয়াপ্ত
গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, আবদুল হান্নান মাসউদ ৯১ হাজার ৮৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক মাত্র ৫০৫ ভোট পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিয়ম অনুসারে, কোনও প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এই নিয়মের কারণে, নির্দিষ্ট সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেকের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে বলে জানা গেছে।
প্রার্থীদের রাজনৈতিক পটভূমি
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবদুল হান্নান মাসউদ ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তার বাবা আমিরুল ইসলাম মোহাম্মদ আবদুল মালেক প্রার্থী হন ২০২৪ সালে দ্বাদশ নির্বাচনের আগে হঠাৎ আলোচনায় আসা বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (বিএসপি) থেকে। তিনি একতারা প্রতীকে নির্বাচনে লড়েছেন।
আসনের অন্যান্য প্রার্থীদের ফলাফল
বাবা-ছেলেসহ এই আসনে ভোটের লড়াইয়ে মোট ১০ জন প্রার্থী মাঠে ছিলেন। এনসিপির নেতা আবদুল হান্নান মাসউদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, যিনি ধানের শীষ প্রতীকে ৬৪ হাজার ২১ ভোট পেয়েছেন। অন্যান্য প্রার্থীদের ভোটের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম ছিল, যা এই আসনে হান্নান মাসউদের জয়কে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিন বলেন, নির্বাচনি আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট না পাওয়ায় নোয়াখালী-৬ আসনের অনেক প্রার্থীই তাদের জামানাত হারাবেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে জামানত বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
এই নির্বাচনটি নোয়াখালী-৬ আসনে একটি পরিবারিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের চিত্র তুলে ধরেছে, যেখানে বাবা-ছেলে একই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ছেলের বিজয় এবং বাবার জামানত হারানো এই ঘটনাকে আরও উল্লেখযোগ্য করে তুলেছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অনন্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
