গণভোটে হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে জনগণ সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে: অধ্যাপক আলী রীয়াজ
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটে হ্যাঁ ভোটের মাধ্যমে জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে সুস্পষ্ট এবং দ্বিধাহীনভাবে তাদের রায় দিয়েছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে এক বিফ্রিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সংস্কারের পক্ষে জনগণের জোরালো সমর্থন
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকরা অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলোর অনুকূলে তাদের রায় দিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই রায় থেকে এটা স্পষ্ট যে বাংলাদেশের নাগরিকদের বৃহদাংশ আর পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে বা স্থিতাবস্থা রাখতে চান না। বরং তারা চান পরিবর্তন এবং রাষ্ট্রব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার।
গণভোটের পরিসংখ্যান ও বিশ্লেষণ
তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোটে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছেন। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া হিসেব অনুযায়ী:
- গণভোটে ভোট দিয়েছেন ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন ভোটার, যা মোট ভোটের প্রায় ৬০.৮৪ শতাংশ।
- এর মধ্যে ৪ কোটি ৮২ লক্ষ ৬৬০ জন ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন, যা কাস্ট হওয়া মোট ভোটের ৬৮.০৬ শতাংশ।
- ‘না’ ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬ জন ভোটার, যা কাস্ট হওয়া ভোটের প্রায় ৩১ শতাংশ।
লক্ষণীয় যে, ভোটারদের ৬০ শতাংশেরও বেশি গণভোটে অংশ নিয়েছেন, যা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চেয়েও এক শতাংশ বেশি।
গণভোটের রায়ের গভীর তাৎপর্য
অধ্যাপক আলী রীয়াজ জোর দিয়ে বলেন, গণভোটে দেওয়া জনগণের রায়কে কেবল সংখ্যার বিবেচনায় দেখলেই হবে না। জনগণের এই রায় হচ্ছে ২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, যারা অকুতভয়ে লড়াই করেছেন, তারা আমাদের ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তার স্বীকৃতি। এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও যোগ করেন, এই গণভোটের ফলাফল শুধু একটি সংখ্যাগত জয় নয়, বরং এটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং পরিবর্তনের দাবির একটি শক্তিশালী প্রকাশ। এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের মানুষ একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক এবং সংস্কারমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
