নির্বাচনে আমিনুল হকের পরাজয়ে সাবেক ক্রীড়াবিদদের ক্ষোভ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
দেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানী ঢাকার প্রার্থীদের মধ্যে ঢাকা-১৬ আসনের আলোচিত এক প্রার্থী ছিলেন সাবেক তারকা ফুটবলার আমিনুল হক। জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয় পাননি। তবে তার দাবি, তাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমিনুল হকের এই পরাজয় মেনে নিতে পারছেন না দেশের সাবেক ক্রীড়াবিদরা, যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।
সাবেক তারকাদের সমর্থন ও মিরপুরে সমাবেশ
মিরপুরে আমিনুল হকের বাসায় গিয়ে সাবেক তারকারা তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মো. সুজন, ডন, জাহেদ চৌধুরী থেকে শুরু করে ক্রিকেট তারকা তামিম ইকবালসহ বিভিন্ন খেলার মানুষরা এ সময় আমিনুলের পাশে দাঁড়ান। তারা কেউ আমিনুলের এই ফল মেনে নিতে পারছেন না। সবার বিশ্বাস, আমিনুলের জয় কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমিনুলের শুভাকাঙ্ক্ষীরা ঢাকা-১৬ (সংসদীয় আসন ১৮৯) নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ভোট কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন।
নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫,৪৬৭ ভোট, অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ৮৮,৮২৮ ভোট। এভাবে ৩,৩৬১ ভোটের ব্যবধানে তিনি পরাজিত হন। সাবেক ক্রীড়াবিদরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশার কথা জানিয়েছেন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেছেন।
সামাজিক মাধ্যম ও সাবেক ক্রীড়াবিদদের প্রতিক্রিয়া
জাতীয় দলের সাবেক গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য অবাক হয়ে লিখেছেন, তিনি নির্বাক। তিনি বলেন, 'এত ত্যাগ, এত নির্যাতন, কারাবাস, নিপীড়ন জেল-জুলুম সহ্য করেছেন আমিনুল। আমার বন্ধু আমিনুল সব কিছু নীরবে সহ্য করেছেন। আমিনুল ছিলেন মিরপুরের মানুষের চোখের মণি। কিন্তু পেছন থেকে নীল ষড়যন্ত্র তাকে হারিয়ে দিয়েছে।'
সাবেক তারকা শুটার শারমিন আক্তার রত্না জানিয়েছেন, আমিনুলকে হারানো হয়েছে। তিনি বলেন, 'যে মানুষটি দেশের জন্য দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য কাজ করছিলেন, তার জনপ্রিয়তার কাছে ঈর্ষা করে হারানোর নীল নকশা করা হয়েছিল। আমিনুল নীল নকশা বুঝেন না। তিনি বুঝেন দেশের মানুষের মঙ্গল।' রত্না আরও জানিয়েছেন, ক্রিকেটের তামিম ইকবাল ভাইও এসেছিলেন আমিনুলের বাসায় এবং দেশের অনেক ক্রীড়াবিদ গিয়েছিলেন মিরপুরে আমিনুলের বাসায়।
ভবিষ্যৎ আশা ও ক্রীড়া উন্নয়নের দাবি
বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেছেন, 'আমি বিশ্বাস করি ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, আমার বন্ধু আমিনুল হককে যথাযথ সম্মান জানাবেন। তারা আমিনুলকে ক্রীড়া নেতৃত্বে দেখতে চান।' ক্রীড়া উন্নয়নে আমিনুল হক যেভাবে কাজ করার কথা ঘোষণা দিয়েছিলেন, তা অন্য কারো মুখ থেকে শোনেননি বলে জানিয়েছেন সাবেক তারকা শুটার শারমিন আক্তার রত্না। তিনি বলেন, 'আমিনুল দেশের ক্রীড়া নেতৃত্বে এলে দেশের সব ক্রীড়াবিদের জন্য মঙ্গলজনক।'
সাবেক ক্রীড়াবিদদের এই সমর্থন ও অভিযোগগুলি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। আমিনুল হকের পরাজয় এবং এর পরবর্তী ঘটনাগুলো দেশের ক্রীড়া ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
