সিলেটের তিন সংসদীয় আসনে প্রবাসী বিএনপি নেতাদের নির্বাচনী সাফল্য
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের চার জেলার মোট ১৯টি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিন প্রবাসী নেতা। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তাঁরা জয়লাভ করেছেন, যা দলের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এসব বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও রয়েছেন, যা প্রবাসী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে।
মনোনয়নপ্রাপ্ত ও বিজয়ী প্রার্থীদের পরিচয়
সিলেট–৩ (দক্ষিণ সুরমা, বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছিলেন দলটির যুক্তরাজ্য শাখার সদ্য সাবেক সভাপতি এবং বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ মালিক। এ ছাড়া সুনামগঞ্জ–৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে যুক্তরাজ্য বিএনপির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ মনোনয়ন পান। অন্যদিকে মৌলভীবাজার–২ (কুলাউড়া) আসনে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মো. সওকতুল ইসলাম দলের মনোনয়ন লাভ করেন।
নির্বাচনী ফলাফলের বিশদ বিবরণ
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এম এ মালিক ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দীন, যিনি ৭৫ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়েছেন। মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৯৭ হাজার ৩১৩ ভোট অর্জন করেছেন, যেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন তালা প্রতীকে ৪২ হাজার ২২৬ ভোট পেয়েছেন। মো. সওকতুল ইসলাম ৮৮ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন, এবং তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. সায়েদ আলী ৫৩ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়েছেন।
প্রবাসী নেতাদের রাজনৈতিক পটভূমি ও তৎপরতা
বিএনপি সূত্র থেকে জানা গেছে, এম এ মালিক ও কয়ছর আহমদ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তাঁরা দেশে ফিরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। এম এ মালিক দীর্ঘ ১৯ বছর পর গত ১৭ অক্টোবর দেশে আসেন। এর আগে প্রবাসে থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলায় ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল তাঁর গ্রামের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। তিনি প্রবাসে আওয়ামী লীগ ও দলটির সভাপতি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নিয়মিত বক্তব্য ও বিবৃতি দিয়ে দলের ভেতরে–বাইরে আলোচিত হয়েছেন।
স্থানীয় বিএনপির নেতা–কর্মীদের মতে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে প্রায় এক যুগ পর দেশে ফেরেন কয়ছর আহমদ। এখানে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে স্থানীয় শক্তিশালী প্রার্থী তেমন ছিলেন না, ফলে কয়ছর আহমদ সহজেই ভোটের মাঠের দখল নিয়ে নেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মো. সওকতুল ইসলাম অনিয়মিতভাবে দেশে আসতেন এবং তিনি ছিলেন কুলাউড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর মো. সওকতুল ইসলাম এলাকায় থেকে নানা কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নেন, যা তাঁর নির্বাচনী সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে।
