কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে ৭ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত, বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী
কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৯ প্রার্থীর মধ্যে ৭ জনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে প্রার্থীরা প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের একভাগ না পাওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে, যা নির্বাচনী বিধি অনুসারে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
জামানত বাজেয়াপ্ত প্রার্থীদের তালিকা
যেসব প্রার্থীদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে, তারা হলেন:
- বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কাস্তে মার্কার প্রার্থী ডা. মো. হাবিল মিয়া (প্রাপ্ত ভোট ৩১২)
- ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের আপেল মার্কার প্রার্থী নাঈমুল হাসান (প্রাপ্ত ভোট ৬৩০)
- জাতীয় পার্টি লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী মোহাম্মদ আয়ূব হোসেন (প্রাপ্ত ভোট ৮০৬)
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা মার্কার প্রার্থী মোহাম্মদ মুছা খান (প্রাপ্ত ভোট ২,৪১১)
- ন্যাশনাল পিপলস পার্টি আম মার্কার প্রার্থী (প্রাপ্ত ভোট ১৮৫)
- বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মোমবাতি মার্কার প্রার্থী (প্রাপ্ত ভোট ২,১৭২)
- গণফোরাম উদীয়মান সূর্য মার্কার প্রার্থী শাফিউদ্দিন আহাম্মদ (প্রাপ্ত ভোট ২২০)
নির্বাচনী বিধি ও ভোটের হিসাব
ভৈরব উপজেলা নির্বাচন অফিসার সাদ্দাম হোসেন জানান, নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থীকে প্রদত্ত বৈধ ভোটের আট ভাগের একভাগ ভোট পেতে হয়। তা না পেলে ওই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের পরিমাণ ২ লাখ ৩৭ হাজার ৯৯০, যার ভোটদানের হার ৫৭.০৩%। প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের একভাগের পরিমাণ ২৯ হাজার ৭৪৯ ভোট, যা এই ৭ প্রার্থী অর্জন করতে পারেননি।
বিজয়ী ও জামানত ফেরতপ্রাপ্ত প্রার্থী
নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মো. শরীফুল আলম, যিনি ১ লাখ ৮৭ হাজার ১৫৯ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী খেলাফত মজলিসের আতাউল্লাহ আমিন ৪৪ হাজার ৯৫ ভোট পেয়েছেন। এই দুজন প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের একভাগের চেয়ে বেশি ভোট পেয়ে তাদের জামানত ফিরে পাবেন।
এই ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিধির কঠোর প্রয়োগের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনেও প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
