পটুয়াখালীর বাউফলে নির্বাচন পরবর্তী হামলা ও ভাঙচুরে পাঁচজন আহত
বাউফলে নির্বাচন পরবর্তী হামলায় পাঁচজন আহত

পটুয়াখালীর বাউফলে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় পাঁচজন আহত

নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী এবং রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিভিন্ন এলাকায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা

শুক্রবার সকালে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গাজী মো. গিয়াসের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং আয়নাবাজ কালাইয়া গ্রামের বিএনপি কর্মী মো. রমিজ দর্জির বসতঘরে জামায়াত সমর্থকরা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। একই সময়ে কনকদিয়া ও মমিনপুর এলাকায় পৃথক মারামারির ঘটনা ঘটেছে। গিয়াসের বাসভবনের সামনে রাখা অন্তত ১০টি মোটরসাইকেল, ফ্রিজ এবং এসি ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এছাড়া, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে কনকদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বীরপাশা খায়েরবাজার এলাকায় বিএনপির কর্মী আলমগীর গাজী ও শাহাবুদ্দিন সরদাকে জামায়াত সমর্থকরা পিটিয়ে জখম করেছে। আহত দুজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, বেলা ১টার দিকে কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামে জামায়াতের সমর্থক মো. ফিরোজকে বিএনপির কর্মী সমর্থকরা পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আহত ফিরোজকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

শুক্রবার বিকেলে বাউফল উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। এই সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যে, দাশপাড়া বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরীর বাড়ি, যুবদলের আহ্বায়ক গাজী গিয়াসের কালাইয়ার বাড়ি, যুবদলের সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম ফিরোজের বাড়ি এবং মদনপুরা ইউনিয়নে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এছাড়া, কেশবপুর ইউনিয়নে যুবদল নেতা আরিফ, আবু তাহের, অলিউল্লাহ, আফজাল বয়াতি, বাচ্চু মালাকার ও দেলোয়ারকে মারধর করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিক্রিয়া

বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকটি জায়গায় হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের কথা শুনে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ ওই আসনে জামায়াতের বিজয়ী প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি তিনি পছন্দ করেন না এবং কোনোভাবেই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এসব সংঘর্ষ-হামলায় তার কোনো কর্মী বা সমর্থক জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনাগুলো স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলমান রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।