ঝিনাইদহে বিএনপির ঐতিহ্যবাহী দুর্গে জামায়াতের তিন আসনে জয়লাভ
ঝিনাইদহ জেলার চারটি সংসদীয় আসনের মধ্যে তিনটিতেই জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। শুধুমাত্র ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বিএনপি নেতা ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জয়লাভ করেছেন। ভোট গণনা শেষে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বেসরকারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
জামায়াতের বিজয়ী তিন প্রার্থীর পরিচয়
জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ী তিনজন প্রার্থী হলেন:
- ঝিনাইদহ-২ (সদর ও হরিণাকুণ্ডু) আসনে আলী আজম মো. আবু বক্কর
- ঝিনাইদহ-৩ (কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর) আসনে মতিয়ার রহমান
- ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদর একাংশ) আসনে মাওলানা আবু তালিব
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উল্লেখ করেছেন যে, ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ঝিনাইদহের সব কটি আসন বিএনপির দখলে ছিল। শুধুমাত্র ২০০১ সালে ঝিনাইদহ-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল হাই ৩৩৫ ভোটের ব্যবধানে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল ওহাবকে পরাজিত করেছিলেন। এবারের নির্বাচনে তিনটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর জয় হয়েছে, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।
বিস্তারিত ভোটের ফলাফল
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ঝিনাইদহ-১ আসনে মো. আসাদুজ্জামান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শৈলকুপা উপজেলা জামায়াতের আমির আবু সালেহ মো. মতিউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ৫৭ হাজার ৫৫ ভোট পেয়েছেন।
ঝিনাইদহ-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আলী আজম মো. আবু বক্কর দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৪ ভোট পেয়েছেন।
ঝিনাইদহ-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. মতিয়ার রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৮৫৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮২১ ভোট পেয়েছেন।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মো. আবু তালিব দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম ফিরোজ ৭৭ হাজার ১০৪ ভোট পেয়েছেন। গণ অধিকার পরিষদ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খাঁন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৫৬ হাজার ২২৪ ভোট পেয়েছেন।
শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ
ঝিনাইদহ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আবুল হোসেন জানিয়েছেন, খুবই উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি এবং ভোটাররা নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে স্বাধীনভাবে ভোট দিয়েছেন। এই শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই ফলাফল ঝিনাইদহের রাজনৈতিক ভূগোলে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যেখানে বিএনপির ঐতিহ্যবাহী শক্তিশালী অবস্থান থেকে তিনটি আসন জামায়াতে ইসলামীর দখলে চলে গেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের নির্বাচনী কৌশল ও জোট গঠনে এই ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
