জুলাই সনদ গণভোটে 'হ্যাঁ'র জয়, ৪ কোটি ৮০ লাখের বেশি ভোটার সমর্থন জানিয়েছেন
জুলাই সনদ গণভোটে 'হ্যাঁ'র জয়, ৪ কোটি ৮০ লাখ ভোটার সমর্থন

জুলাই সনদ গণভোটে 'হ্যাঁ'র পক্ষে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে 'হ্যাঁ'র পক্ষে ভোট দিয়েছেন দেশের ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ ভোটার। অন্যদিকে, 'না'র পক্ষে ভোট দিয়েছেন ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭ ভোটার। মোট ২৯৯টি আসনে এই গণভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।

গণভোটের প্রশ্ন ও প্রক্রিয়া

গণভোটের ব্যালটে চারটি বিষয়ের ওপর একটি প্রশ্ন করা হয়েছিল। নাগরিকরা 'হ্যাঁ' বা 'না' ভোট দিয়ে তাদের মতামত প্রদান করেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন পক্ষে এই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। প্রশ্নটি ছিল, 'আপনি কি জুলাই 'জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫' এবং জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত নিম্নলিখিত প্রস্তাবগুলোর প্রতি আপনার সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?' জবাবে ভোটারদের 'হ্যাঁ' অথবা 'না' ভোট দিতে বলা হয়।

গণভোটের চারটি মূল বিষয়

গণভোটে উত্থাপিত চারটি প্রধান বিষয় নিম্নরূপ:

  1. নির্বাচনকালীন সময়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই সনদে বর্ণিত প্রক্রিয়ার আলোকে গঠন করা হবে।
  2. আগামী সংসদ হবে দুই কক্ষ বিশিষ্ট। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে এবং সংবিধান সংশোধন করতে হলে উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের অনুমোদন দরকার হবে।
  3. সংসদে নারীর প্রতিনিধি বৃদ্ধি, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার ও সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিতকরণ, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধি, মৌলিক অধিকার সম্প্রসারণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্থানীয় সরকার-সহ বিভিন্ন বিষয়ে যে ৩০টি প্রস্তাবে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য হয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আগামী নির্বাচনে বিজয়ী দলগুলো বাধ্য থাকবে।
  4. জুলাই সনদে বর্ণিত অন্যান্য সংস্কার রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিশ্রুতি অনুসারে বাস্তবায়ন করা হবে।

এই গণভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভোটারদের অংশগ্রহণ ও মতামত প্রকাশের এই প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।