ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে বিএনপির আবদুল মান্নানের চূড়ান্ত বিজয়
উৎসবমুখর পরিবেশ ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান। তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই নির্বাচনে তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপসকে মাত্র ১০৬১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন।
ফলাফল ঘোষণা ও ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান এবং উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন। এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ৮৪ হাজার ৭৬১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র (বিএনপি বিদ্রোহী) প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপস ফুটবল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৯৯৫ ভোট।
অন্যান্য প্রার্থীদের ভোটের হিসাব
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ১১ দলীয় জোট মনোনীত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমজাদ হোসেন আশরাফী (রিকশা) ৫৭ হাজার ৭৪৯ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নজরুল ইসলাম (হাতপাখা) ২০ হাজার ৫৮৮ ভোট পেয়েছেন।
এছাড়া জাতীয় পার্টির কামরুল হাসান (লাঙ্গল) ৩৬৮, সিপিবির মো. শাহীন খান (কাস্তে) ৩৫৪, গণসংহতি বাংলাদেশের নাহিদা জাহান (মাথাল) ২৫৯ এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ আশরাফুল হক (আপেল) ২৫৬ ভোট পেয়েছেন।
পোস্টাল ব্যালট ও গণভোটের ফল
এই নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট গণনায় দেখা গেছে ভিন্ন এক সমীকরণ। মোট ৫ হাজার ৩২৮টি পোস্টাল ব্যালটের মধ্যে ৩৭৪টি বাতিল বলে গণ্য হয়। বৈধ ৪ হাজার ৯৫৪টি ভোটের মধ্যে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ১০৮ ভোট পেয়েছেন রিকশা প্রতীকের আমজাদ হোসেন আশরাফী। এছাড়া আবদুল মান্নান (ধানের শীষ) ১০০৮ ভোট, নাজমুল হোসেন তাপস (ফুটবল) ৭১৩ ভোট এবং নজরুল ইসলাম (হাতপাখা) ১০৮ ভোট পান।
অন্যান্যদের মধ্যে নাহিদা জাহান ৭ ভোট, শাহীন খান ৫ ভোট, কামরুল হাসান ৪ ভোট এবং মোহাম্মদ আশরাফুল হক ১টি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন। সংসদ নির্বাচনের সমান্তরালে অনুষ্ঠিত গণভোটেও ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করেন। এই আসনে সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ২৩৫টি এবং বিপক্ষে ‘না’ ভোট পড়েছে ৫৭ হাজার ৩৪৯টি।
ভোটার উপস্থিতি ও প্রশাসনের দাবি
উপজেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, নবীনগরের ১৫৪টি কেন্দ্রে মোট ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৮২৬ জন ভোটারের মধ্যে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৭৬২ জন ভোট দিয়েছেন। ভোটের হার ছিল ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
প্রশাসনের দাবি, স্বচ্ছ ব্যালট পেপার এবং কঠোর নজরদারির কারণে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে। এই নির্বাচনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
