গোপালগঞ্জের তিন আসনে বিএনপির জয়, শেখ হাসিনার জেলায় বিরোধী দলের বিজয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জের তিনটি আসনেই জয় লাভ করেছে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিজ জেলা হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে বিরোধী দলের এই বিজয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান।
গোপালগঞ্জ-১ আসনে সেলিমুজ্জামান মোল্লার জয়
গোপালগঞ্জ-১ আসনে, যা মুকসুদপুর ও কাশিয়ানীর একাংশ নিয়ে গঠিত, বিএনপির প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্লা ধানের শীষ প্রতীকে ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. কাবির মিয়া ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৯৬১ ভোট। উল্লেখ্য, এই আসনটিতে ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচন থেকে টানা ছয়বার এমপি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফারুক খান, যিনি তখন আওয়ামী লীগের বাণিজ্য ও শিল্প বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
গোপালগঞ্জ-২ আসনে কেএম বাবরের বিজয়
গোপালগঞ্জ-২ আসনে, যা গোপালগঞ্জ সদর ও কাশিয়ানীর একাংশ নিয়ে গঠিত, বিএনপির কেএম বাবর ধানের শীষ প্রতীকে ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী এমএইচ খান মঞ্জু হরিণ প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৩৯ ভোট। এই আসনে ১৯৮৬ সাল থেকে আটবার এমপি ছিলেন শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যা এই বিজয়কে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
গোপালগঞ্জ-৩ আসনে এসএম জিলানীর সাফল্য
গোপালগঞ্জ-৩ আসনে, যা টুঙ্গিপাড়া ও কোটালীপাড়া নিয়ে গঠিত, বিএনপির প্রার্থী এসএম জিলানী ধানের শীষ প্রতীকে ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৮৬৭ ভোট। এই আসনে ১৯৯১ সাল থেকে সাত বার এমপি হয়েছিলেন শেখ হাসিনা নিজে, যা এই বিজয়কে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
এই নির্বাচনী ফলাফল গোপালগঞ্জ জেলার রাজনৈতিক চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। বিএনপির এই বিজয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যত রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
