সিলেট-৪ আসনে বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরীর বিশাল জয়
সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে সিলেট রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বেসরকারিভাবে তাঁকে নির্বাচিত ঘোষণা করেন। আরিফুল হক মোট ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬টি ভোট পেয়েছেন, যা তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জয়নাল আবেদীনের ৭১ হাজার ৩৯১ ভোটের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধান তৈরি করেছে।
আরিফুল হকের প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক পটভূমি
বিজয়ী হওয়ার পর আরিফুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘মানুষ যে বিপুল সমর্থন দিয়ে আমাকে এমপি নির্বাচিত করেছেন, এর ঋণ শোধ করার মতো কোনো ক্ষমতা আমার নেই। তবে এ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সুখে-দুঃখে সিলেট-৪ আসনের মানুষের পাশে আমৃত্যু থাকব। নির্বাচনী প্রচারণাকালে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেসব পূরণ করাই হবে আমার একমাত্র লক্ষ্য।’ তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র হিসেবে টানা দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা হিসেবে বর্তমানে দলীয় পদে রয়েছেন।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া ও নির্বাচনী প্রচারণা
সিলেট বিএনপির সূত্রে জানা গেছে, আরিফুল হক প্রাথমিকভাবে সিলেট-১ (নগর ও সদর) আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন, কিন্তু দলের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হন। গত ৫ নভেম্বর রাতে দলের হাইকমান্ড তাঁকে এই আসনে প্রার্থী হতে নির্দেশনা দেয় এবং ৭ নভেম্বর থেকে তিনি নির্বাচনী এলাকায় প্রচার শুরু করেন। ৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড
আরিফুল হক চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ছাত্রদলের মাধ্যমে, যেখানে তিনি জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং এমসি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত হন এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন। ২০১৩ সালে তিনি আওয়ামী লীগের প্রয়াত মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে হারিয়ে প্রথমবার মেয়র হন এবং ২০১৮ সালে পুনরায় নির্বাচিত হয়ে সিলেটে ব্যাপক উন্নয়নকাজ পরিচালনা করেন।
দলীয় গ্রহণযোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক সিদ্দিকীর মতে, আরিফুল হকের সিলেট-১ আসনে শক্ত অবস্থান থাকলেও সিলেট-৪ আসনে অল্প সময়ে প্রচার চালিয়ে মানুষের মন জয় করে নেন, যা তাঁর বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়ের মূল কারণ। তিনি দলমত-নির্বিশেষে সিলেটবাসীর কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন এবং এবারের নির্বাচনে তাঁর জয় বিএনপির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
