ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বিএনপি বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আসন বণ্টন চুক্তি করেছিল। ইসলামপন্থি দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ছিল সেই চুক্তির অন্যতম শরিক। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী দলটি জমিয়তকে মোট চারটি সংসদীয় আসনে প্রার্থী দিতে সম্মতি দিয়েছিল।
চার আসনে জমিয়তের প্রার্থীরা
বিএনপি জমিয়তকে যে চারটি আসন ছেড়ে দিয়েছিল সেগুলো হলো নীলফামারী-১, নারায়ণগঞ্জ-৪, সিলেট-৫ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২। দলটির শীর্ষ নেতৃত্বই এই আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নেন। সিলেট-৫ আসনে (কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ) প্রার্থী হয়েছিলেন জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে (সরাইল ও আশুগঞ্জ) লড়েছিলেন দলের সহসভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব। নীলফামারী-১ আসনে (ডিমলা ও ডোমার) মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে (ফতুল্লা) দলটির জেলা সভাপতি মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
বিএনপির পূর্ণ সমর্থন সত্ত্বেও পরাজয়
বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণে বিএনপির পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক সমর্থন থাকা সত্ত্বেও জমিয়তের এই চার শীর্ষ নেতাই জয়ী হতে ব্যর্থ হন। তারা প্রত্যেকেই নিজ নিজ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কাছে উল্লেখযোগ্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। এই ফলাফল রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
আসনওয়ারি ফলাফলের বিস্তারিত
সিলেট-৫ আসনে উবায়দুল্লাহ ফারুকের পরাজয়
সিলেট-৫ আসনে জমিয়ত সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মুফতি আবুল হাসানের কাছে পরাজিত হন। আবুল হাসান দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে ৪৪ হাজার ১৮১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। অপরদিকে খেজুরগাছ প্রতীকের জমিয়ত প্রার্থী উবায়দুল্লাহ ফারুক পেয়েছেন মাত্র ২০ হাজার ৬৬০ ভোট।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জুনায়েদ হাবীবের হার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে জমিয়তের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রুমিন ফারহানার কাছে পরাজয় বরণ করেন। রুমিন ফারহানা হাঁস প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। জুনায়েদ হাবীব খেজুরগাছ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯২৭ ভোট।
নীলফামারী-১ আসনে মনজুরুল ইসলামের পরাজয়
নীলফামারী-১ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আবদুস সাত্তার দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৪৯ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জমিয়তের মহাসচিব মনজুরুল ইসলাম খেজুর গাছ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬০ ভোট।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মনির হোসাইনের পরাজয়
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জামায়াত জোটের শরিক এনসিপির প্রার্থী আবদুলাহ আল আমিন শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ৪ হাজার ৪৮২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তের প্রার্থী মনির হোসাইন কাসেমী পেয়েছেন ৮০ হাজার ১৩৮ ভোট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের এই চার শীর্ষ নেতার একযোগে পরাজয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য বিস্ময়কর ঘটনা। বিএনপির পূর্ণ সমর্থন সত্ত্বেও দলটি ভোটারদের কাছে পর্যাপ্ত গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীদের কাছে পরাজয় ইসলামপন্থি ভোটারদের মধ্যে বিভাজনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই নির্বাচনী ফলাফল জমিয়তের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। দলটির নেতৃত্বকে এখন ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে নতুন করে ভাবতে হবে। একইসাথে বিএনপির জোট ব্যবস্থাপনায়ও এই ফলাফল প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
