অশীতিপর জরিনা বেগম হুইলচেয়ারে বসে ভোট দিলেন যশোরে, সন্তুষ্টি প্রকাশ
অশীতিপর জরিনা বেগম হুইলচেয়ারে ভোট দিলেন যশোরে

অশীতিপর জরিনা বেগম হুইলচেয়ারে বসে ভোট দিলেন যশোরে

যশোর সদর উপজেলার মুনসেফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে হুইলচেয়ারে বসে ভোট দিলেন অশীতিপর বৃদ্ধা জরিনা বেগম। জীবনসায়াহ্নে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে তিনি গভীর সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

মেয়ের সহায়তায় ভোটদান

জরিনা বেগমকে ভোট দিতে নিয়ে আসেন তার মেয়ে রিজিয়া বেগম। রিজিয়া বেগম বলেন, ‘আমার মা ভোট দিতে আসতে চেয়েছিলেন। তাই তাকে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে এসেছি। আমরা প্রার্থীর কাছে তেমন কিছুই চাই না। আমরা যাতে ভালো থাকি, সেই ব্যবস্থা করলেই আমরা খুশি।’

হুইলচেয়ারে মেয়ের সঙ্গে ভোট দেওয়ার পর জরিনা বেগম বলেন, ‘বহু বছর আগে ভোট দিছি। এবার ভোট দিয়ে ভালো লাগছে।’ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন জরিনা বেগম ও রিজিয়া বেগম।

ভোটকেন্দ্রের পরিবেশ

এ সময় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নারী-পুরুষদের ভোট দিতে দেখা যায়। দীর্ঘ লাইন হলেও ভোটারদের মধ্যে কোনো বিরক্তি দেখা যায়নি। সবাই আনন্দের মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

অন্য ভোটারদের অংশগ্রহণ

বেলা ১১টার পর হুইলচেয়ারে ভোট দিতে আসেন মুক্তার শেখ নামের আরেক ব্যক্তি। ভোট দিয়ে তিনি বলেন, ‘১৭ বছর পরে ভোট দিয়ে খুব আনন্দ লাগছে। এখন দেখার বিষয়, ভোটের পর নতুন সরকার আমাদের কতটা ভালো রাখতে পারে।’

মুক্তারের ছেলে ইব্রাহিম শেখ বলেন, ‘ভোট দেওয়ার জন্য আব্বা খুব জোরাজুরি করছিলেন। ভোটকেন্দ্রে আসার পরে অনেকেই বলেছেন, এত কষ্ট করে ভোট দেওয়ার দরকার নাই; কিন্তু আব্বা কারও কথা শোনেননি। যত কষ্টই হোক, তিনি ভোট দিয়েই বাড়ি যাবেন বলে সবাইকে জানিয়ে দেন।’

ভোটকেন্দ্রের পরিসংখ্যান

মুনসেফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ বলেন, এই কেন্দ্রের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৯৬৩ জন। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই কেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।

এই ঘটনা যশোর অঞ্চলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকদের আগ্রহ ও দায়িত্ববোধের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জযুক্ত ব্যক্তিদের ভোটদানে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ।