ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানার বিশাল ব্যবধানে বিজয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা হাঁস প্রতীকে নিয়ে নাটকীয়ভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবের চেয়ে ৩৭ হাজার ৫৬৮ ভোট বেশি পেয়ে এই আসনে জয়লাভ করেছেন।
ভোটের ফলাফল ও পরিসংখ্যান
১৫১টি কেন্দ্রের সবকটিতে রুমিন ফারহানা মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৯৫ ভোট পেয়েছেন। অন্যদিকে, বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব খেজুরগাছ প্রতীকে ৭৯ হাজার ৯২৭ ভোট পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা আবু বকর সরকার বেসরকারিভাবে রুমিন ফারহানাকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার ৪৪৮ জন। ভোট পড়েছে ৪৪ দশমিক ৮ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের কাছাকাছি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নির্বাচনী দিনের ঘটনাপ্রবাহ
বৃহস্পতিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বড় কোনো অঘটন ছাড়াই ভোটগ্রহণ শেষ হয়। তবে একটি কেন্দ্রে দুই প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যার ফলে ভোটগ্রহণ ৫ মিনিটের জন্য বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া, দুই প্রার্থীর কেন্দ্র পরিদর্শন নিয়ে দুই কেন্দ্রে কিছুটা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সরাইল উপজেলা সদরের কাচারিপাড়া এলাকায় সৈয়দ সিরাজুল ইসলাম মিলনায়তন ভোটকেন্দ্রে সকাল ৮টার দিকে ২ নম্বর বুথের পোলিং কর্মকর্তা মো. মুজাহিদুল ইসলাম (৪৮) অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রার্থীদের তালিকা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী ছিলেন, কিন্তু মূলত ৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এখানে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা এবং বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব। জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা গত রোববার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কিছুটা প্রভাবিত করেছে।
এই নির্বাচন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে রাজনৈতিক পরিবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেছে। ভোটারদের অংশগ্রহণ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ স্থানীয় গণতন্ত্রের একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
