খুলনা সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের জয়, হেভিওয়েট প্রার্থীদের পরাজয়
খুলনা নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের জয়, হেভিওয়েটরা হেরেছেন

খুলনা সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের জয়, হেভিওয়েট প্রার্থীদের পরাজয়

খুলনা জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের চারটিতে বিএনপি ও দুটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। এই নির্বাচনে উভয় দলের দুজন হেভিওয়েট প্রার্থী পরাজিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ভোট গণনা শেষে জেলা প্রশাসক ও খুলনা ১, ২, ৪, ৫ ও ৬ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার এবং খুলনা-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের পৃথকভাবে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

খুলনা-১ আসনে বিএনপির জয়

খুলনা-১ আসনে বিএনপির আমির এজাজ খান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের কৃষ্ণ নন্দী দাঁড়িপাল্লায় পেয়েছেন ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট। এই আসনে মোট কেন্দ্র ১২০টি, ভোটার ৩ লাখ ৭ হাজার ১০৩ জন এবং ভোট পড়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৮৯৯টি। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের মো. আবু সাইদ পেয়েছেন ৫ হাজার ৬১৯ ভোট, জাতীয় পার্টির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৬৩০ ভোট, ইসলামি ফ্রন্টের সুনীল শুভ রায় মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৮৮১ ভোট, সিপিবির কিশোর কুমার রায় কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৭৪২ ভোট, কলস প্রতীকে গোবিন্দ হালদার পেয়েছেন ৮৯৪ ভোট, জিওপির জিএম রোকনুজ্জামান ট্রাক প্রতীকে পেয়েছেন ৮৪ ভোট, বিএমজেপির রকেট প্রতীকে প্রবীর গোপাল রায় পেয়েছেন ৫৬৭ ভোট, তারা প্রতীকে জেএসডির প্রসেনজিৎ দত্ত পেয়েছেন ৫১৩ ভোট, ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী অচিন্ত কুমার পেয়েছেন ৭১০ ভোট এবং বিইপির দোয়াত কলম প্রতীকে সুব্রত মন্ডল পেয়েছেন ১৬৯ ভোট।

খুলনা-২ ও ৩ আসনের ফলাফল

খুলনা-২ আসনে জামায়াতের মহানগর সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট। এই আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে পরিচিত বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু পরাজিত হয়েছেন। মোট ১৫৮টি কেন্দ্রে ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৩ জন এবং ইসলামী আন্দোলনের আমানুল্লাহ পেয়েছেন ৭ হাজার ২৯৮ ভোট।

খুলনা-৩ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রকিবুল ইসলাম বকুল ধানের শীষ প্রতীকে ৭৪ হাজার ৮৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৬ হাজার ১০ ভোট। এ আসনের ১১৬টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৯ জন এবং ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ২৪৫টি, যা শতকরা ৫৯.৮৪ শতাংশ। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবদুল আউয়াল হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ৫ হাজার ৭০৫ ভোট, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আক মামুন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১০৭০ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান মিঠু হরিণ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৩৭ ভোট, বাসদের জনার্দন দত্ত মই প্রতীকে পেয়েছেন ২৪৬ ভোট, মইন মোহাম্মদ মায়াজ ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৯৮ ভোট, আবুল হাসনাত সিদ্দিক জাহাজ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৮ ভোট, মো. মুরাদ খান লিটন ঘুড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ৮৩ ভোট এবং এনডিএমের শেখ আরমান হোসেন সিংহ প্রতীকে পেয়েছেন ১৪১ ভোট।

খুলনা-৪, ৫ ও ৬ আসনের চূড়ান্ত ফল

খুলনা-৪ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক এস কে আজিজুল বারী হেলাল ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৩ হাজার ১৬২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৫৩০ ভোট। হেলাল ১৩ হাজার ৬৩২ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হন। এ আসনে মোট ১৪৫টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৩ ভোটার ছিলেন এবং ভোট পড়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৮১৬টি। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামি আন্দোলনের ইউনুস আহম্মেদ শেখ হাতপাখা প্রতীকে ১৩ হাজার ৩৪৫ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম আজমল হোসেন ফুটবল প্রতীকে ৮৫৯ ভোট পেয়েছেন। এখানে গণভোট পড়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৮৭৯টি, যার মধ্যে হ্যাঁ ভোট ১ লাখ ৫৬ হাজার ১৪৫টি ও না ভোট ৭৫ হাজার ৬৪২টি।

খুলনা-৫ আসনে বিএনপির আলি আসগার লবি ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। এই আসনে জামায়াতের হেভিওয়েট প্রার্থী গোলাম পরওয়ার পরাজিত হয়েছেন। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে শামীম আরা পারভীন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৩১৯ ভোট এবং চিত্তরঞ্জন গোলদার কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৭৯০ ভোট।

খুলনা-৬ আসনে জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৫০ হাজার ৭২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এস এম মনিরুল ইসলাম বাপ্পী ধানের শীষে পেয়েছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৭১০ ভোট। মোট ১৫৬ কেন্দ্রে ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৩২ জন এবং ভোট পড়েছে ২ লাখ ৮৮ হাজার ১৯১টি। অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে সিপিবির প্রশান্ত কুমার মন্ডল কান্তে প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৫৭১ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মো. আসাদুল্লাহ ফকির হাতপাখা প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৯৫০ ভোট এবং জাতীয় পার্টির মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ২৭১৭ ভোট।