ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনে মাওলানা মামুনুল হক
ঢাকা-১৩ আসনের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) হাজির হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে নির্বাচন ভবনে আসেন ১১ দলীয় জোটের এই প্রার্থী।
অভিযোগ দাখিলের প্রক্রিয়া
এর আগে, রাত ২টার দিকে মামুনুল হক তার আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে অভিযোগ দাখিল করেন। ওই সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা তাকে নির্বাচন কমিশনের অফিসে সরাসরি অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেন। এছাড়া, ফলাফল ঘোষণার পর সংক্ষুব্ধ হলে আদালতেও অভিযোগ দাখিলের সুযোগ রয়েছে বলে তাকে জানানো হয়।
রিটার্নিং কর্মকর্তা মামুনুল হককে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আদালত আমাদের যে নির্দেশনা দেবেন আমরা সেভাবে কাজ করবো। প্রয়োজনে পুনরায় ভোট গণনা হবে।”
মামুনুল হকের অভিযোগের বিস্তারিত
অভিযোগের বিষয়ে মামুনুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, “আমার আসনে ৯ জন প্রার্থী। ব্যালটের এক পাশে পাঁচজন প্রার্থীর নাম, অপর পাশে চারজন প্রার্থীর নাম। আমার নাম বামদিকে সবার নিচে। আমার নামের পাশের ঘর খালি থাকায় অনেক ভোটার ভুলক্রমে ফাঁকা জায়গায় সিল দিয়ে দেয়। সেই ব্যালটগুলো বাতিল করা হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ঢাকা-৮ আসনে আমার মতো একই রকমভাবে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের নাম ব্যালটে থাকায় সেখানেও কিছু সিল ফাঁকা জায়গায় পরে। কিন্তু, সেসব ভোট মির্জা আব্বাসের নামে গণনা করা হয়েছে।”
ভোট বাতিলের পরিসংখ্যান ও সম্ভাব্য প্রভাব
৫০টি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণায় এক হাজার ২০০ ভোট বাতিল হয়েছে বলে মামুনুল হক জানান। তিনি বলেন, “বাকি ভোটকেন্দ্রগুলোর ভোট গণনা বাকি আছে। আমরা ধারণা করছি, সব ভোটকেন্দ্রের এমন ভোটগুলো বাতিল করলে তা প্রায় তিন হাজারে পৌঁছাবে। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৯টি।”
তিনি আরও দাবি করেন, “ঢাকা-১৩ আসনে আমার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করা বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজকে দুই হাজার ২০০ ভোটে এগিয়ে আছে বলে আমাকে জানানো হয়েছে। কিন্তু, আমার বাতিল করা তিন হাজার ভোট বৈধ হিসাবে গণ্য করা হলে এ আসনে আমি জয়ী হই।”
এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোট গণনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মামুনুল হকের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, তা এখন দেখার বিষয়।
