ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরে জামায়াতের পাঁচ ও বিএনপির এক আসনে জয়
যশোর সংসদ নির্বাচনে জামায়াত পাঁচ ও বিএনপি এক আসনে জয়ী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর জেলায় জামায়াত ও বিএনপির জয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং একটিতে বিএনপি বেসরকারিভাবে জয়লাভ করেছে। কেন্দ্রভিত্তিক ঘোষিত ফলাফলে এ চিত্র স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জামায়াতের প্রার্থীরা বেশিরভাগ আসনে উল্লেখযোগ্য ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।

যশোর-১ (শার্শা) আসনের ফলাফল

যশোর-১ (শার্শা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আজীজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯০৯ ভোট। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী প্রায় ২৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের ফলাফল

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে জামায়াতের ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭১ হাজার ৯৯১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বিএনপির সাবিরা সুলতানা ওরফে সাবিরা সুলতানা মুন্নি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৩১ ভোট। এখানে জামায়াতের প্রার্থী প্রায় ২৭ হাজার ভোটের ব্যবধান বজায় রেখেছেন।

যশোর-৩ (সদর) আসনের ফলাফল

যশোর-৩ (সদর) আসনে একমাত্র আসনে বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৬৪৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতের আব্দুল কাদের ওরফে ভিপি কাদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ৪৫৯ ভোট। এই আসনে বিএনপি প্রায় ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছে।

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর-সদরের বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনের ফলাফল

যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর-সদরের বসুন্দিয়া ইউনিয়ন) আসনে জামায়াতের অধ্যাপক গোলাম রসুল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৩৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজী ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ২৭ হাজার ৩০৬ ভোট। এখানে জামায়াতের প্রার্থী প্রায় ৫০ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।

যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনের ফলাফল

যশোর-৫ (মনিরামপুর) আসনে জামায়াতের গাজী এনামুল হক দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থী অ্যাডভোকেট শহীদ মো. ইকবাল হোসেন কলস প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৫ ভোট। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রশীদ আহমাদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৮৭৫ ভোট। এই আসনে জামায়াতের প্রার্থী উল্লেখযোগ্য ভোটের ব্যবধান বজায় রেখেছেন।

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের ফলাফল

যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে জামায়াতের অধ্যাপক মোক্তার আলী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯২ হাজার ২৫৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৯৫৯ ভোট। এখানে জামায়াতের প্রার্থী প্রায় ১২ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর জেলার ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর পারফরম্যান্স উল্লেখযোগ্য বিষয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। জামায়াতের পাঁচটি আসনে জয় এবং বিএনপির একটি আসনে জয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মাঝে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনী ফলাফল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিটি আসনে ভোটের ব্যবধান এবং প্রার্থীদের পারফরম্যান্স স্থানীয় রাজনৈতিক গতিশীলতাকে প্রতিফলিত করছে।