জামায়াতের আমীর ড. শফিকুর রহমান বললেন, ভোটের ধারা বজায় থাকলে নির্বাচনী ফল মেনে নেবে দল
জামায়াতের আমীর: ভোটের ধারা বজায় থাকলে ফল মেনে নেব

জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনী ফল মেনে নেবে: আমীর ড. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমান বৃহস্পতিবার স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দিয়েছেন যে, চলমান ভোটগ্রহণের ধারা অব্যাহত থাকলে দল নির্বাচনী ফলাফল মেনে নেবে। সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকা-১৫ আসনের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত সি লাউঞ্জ রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বক্তব্য রাখেন।

প্রাথমিক ফলাফল ও দলের অবস্থান

ড. শফিকুর রহমান বলেন, "নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। এখনই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়, তবে আমরা জনগণের ওপর আস্থা রাখি। প্রাথমিক সংকেতগুলো ইতিবাচক, কিন্তু নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। দেশের স্বার্থই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বেশিরভাগ এলাকায় প্রাথমিক ফলাফলে আমরা এগিয়ে আছি। আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে।"

তিনি দলের ঐতিহাসিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করে যোগ করেন, "প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জামায়াতে ইসলামীকে বারবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু দল কখনো থেমে থাকেনি। আমাদের আগে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তারা প্রাকৃতিকভাবে কিংবা নিপীড়নের শিকার হয়ে প্রয়াত হয়েছেন।"

প্রবাসী ভোটারদের ভূমিকা ও প্রতিশ্রুতি

প্রবাসী ভোটারদের উদ্দেশ্যে জামায়াত নেতা বলেন, "গত তিনটি নির্বাচনে আমাদের কেউই ভোট দিতে পারেনি। এবার প্রবাসীরা অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। তারা আমাদের জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। বহু অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছেন। ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে অন্যান্য অধিকার স্বাভাবিকভাবেই আসবে। আমরা যদি তাদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালন করি, তারা আরও全心全意 সমর্থন দেবেন।"

জুলাই আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, "সরকার যখন রেমিট্যান্সে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে, তখন তাদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছিল, কিন্তু প্রবাসীরা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বহু স্থানে প্রতিবাদ জানান। কেউ কেউ গ্রেফতার ও কারাবরণও করেছেন। আমরা তাদের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দিই। আমরা ক্ষমতায় এলে তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হবে।"

সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সহযোগিতার আহ্বান

জামায়াতের আমীর সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "সাংবাদিকরা আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন, আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমরা সবাইকে কাছে পৌঁছাতে পারিনি, যা আমাদের দায়িত্ব ছিল—এজন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী। আমরা একসঙ্গে কাজ করব। একটি দেশ একা গড়ে তোলা যায় না; রাজনীতিবিদ ও সাংবাদিকদের সব দিক বিবেচনা করতে হবে।"

অনিয়ম ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতি মনোভাব

নির্বাচনী অনিয়ম প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, "ভীতি প্রদর্শনের অনেক চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু বড় ধরনের অনিয়ম ঘটেনি। একটি সমাজে মানুষ যখন একসঙ্গে কাজ করে, তখন ভুল হতে পারে।"

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সম্পর্কে জামায়াত নেতা যোগ করেন, "আমরা আজও আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে দেখা করেছি। তাদের একজন জয়ী হবেন, আমরা তাদের জয় মেনে নেব।如果我 নির্বাচিত হই, সবার পরামর্শ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করব। সরকারে আমরা সব দলের সমর্থন দেব। যেসব দেশের সঙ্গে আমাদের ইতিবাচক সম্পর্ক আছে, তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখব এবং খোলা মনে সবার প্রাপ্য নিশ্চিত করব।"

সংবাদ সম্মেলনে ড. শফিকুর রহমান দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও জাতীয় স্বার্থে সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেন, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।