নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলমকে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীকে অবরুদ্ধ রাখার ঘটনা

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলমকে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার ঘটনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে এক উত্তেজনাকর ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহ আলমকে বিএনপি-সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থীর সমর্থকেরা প্রায় দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন। এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপের পর সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি মুক্ত হন।

ঘটনার সূত্রপাত ও উত্তেজনা

বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনার শুরু। ভোট গ্রহণ শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী শাহ আলম কেন্দ্রে প্রবেশ করলে বিএনপির দলীয় জোট জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থীর সমর্থকেরা তীব্র আপত্তি জানান। উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শাহ আলমকে তখনই অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে এবং শাহ আলমকে মুক্ত করে দেওয়া হয়।

অভিযোগ ও জবাব

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মনির হোসাইন অভিযোগ করেন যে, শাহ আলম নির্ধারিত সময়ের পরে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন এবং তাঁর সঙ্গে একটি ব্যাগে টাকা ছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির সন্ধ্যা সাতটার দিকে ঘটনাস্থলে এসে সাংবাদিকদের জানান, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ব্যাগে টাকা থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে তল্লাশি চালানো হয়। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তল্লাশি করা হলেও কোনো ব্যাগ বা টাকা পাওয়া যায়নি।

আইনগত ব্যবস্থা ও ক্ষমা প্রার্থনা

জেলা প্রশাসক আরও উল্লেখ করেন, কেন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে আটকে রাখা হয়েছিল এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছিল, এই অভিযোগে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মনির হোসাইনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ খবর শুনে মনির হোসাইন নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন বলে জানা গেছে।

শাহ আলম, যিনি বিএনপির বহিষ্কৃত নির্বাহী কমিটির সদস্য, তিনি এই ঘটনায় সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে পারেননি। তবে তাঁর মুক্তির পর পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এসেছে।

এই ঘটনা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটি বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভোটগ্রহণ পরবর্তী এমন ঘটনা নির্বাচনী শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।