নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা, জাল ভোট ও এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচন বর্জন, জাল ভোটের অভিযোগ

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী

নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে কেন্দ্র থেকে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়া এবং জাল ভোট দেওয়াসহ নানা অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন ‘ঘোড়া’ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ৩টার দিকে সোনারগাঁ উপজেলার মেঘনা শিল্প এলাকায় সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই ঘোষণা দেন।

প্রার্থীর তীব্র অভিযোগ

বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে অধ্যাপক রেজাউল করিম অভিযোগ করেন যে, তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং জাল ভোট দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বিএনপির প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নানের নেতাকর্মীরা তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছেন এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছেন।

এই পরিস্থিতিতে তিনি নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন এবং এই আসনে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানান। তার মতে, ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম ও জালিয়াতির কারণে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট হয়েছে।

নির্বাচন কর্মকর্তার বক্তব্য

তবে এই অভিযোগগুলোকে স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তা। সোনারগাঁ অঞ্চলের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, তিনি সকালে একটি কেন্দ্রে এজেন্ট না থাকার অভিযোগ করেছিলেন।

তখন তাকে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে এজেন্ট পাঠানোর অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তার কোনো এজেন্ট প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে রিপোর্ট করেননি। তিনি আরও বলেন, সোনারগাঁয়ে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোটগ্রহণ হয়েছে এবং ভোটাররা শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিয়েছেন।

আসনের প্রেক্ষাপট

সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চল নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯৩ হাজার। এই আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে এই বিতর্ক আসনের রাজনৈতিক পরিবেশকে উত্তপ্ত করে তুলেছে।

নির্বাচন কর্মকর্তারা দাবি করছেন যে, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু প্রার্থীর অভিযোগ নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এই অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে।