গাজীপুরে ভোট কক্ষে নারীর ভোট অন্য কেউ দেয়, তিন কর্মকর্তা প্রত্যাহার
গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর ও সদর একাংশ) আসনের শ্রীপুর পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এক নারী ভোটারের ভোট অজ্ঞাত একজন দিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজন নির্বাচন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই অনিয়মের ঘটনা ঘটে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় একটি গুরুতর ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, লাকী বেগম নামের এক নারী ভোটার সকালে ভোট দিতে লাইনে দাঁড়ান। প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর ভোটকক্ষে প্রবেশ করে তিনি হতবাক হয়ে যান, কারণ তার ভোট ইতিমধ্যেই অন্য কেউ দিয়ে গেছেন। তিনি হতাশ হয়ে ফিরে যাওয়ার সময় বিষয়টি দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের জানান, যা পরবর্তীতে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগে রূপ নেয়।
শ্রীপুর পাইলট সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের মহিলা ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন বলেন, "এ ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এটা কীভাবে ঘটল, তা তদন্ত করে দেখা হবে।" তার মতে, এই ধরনের ঘটনা নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার ও তদন্ত
ঘটনার পর ওই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হারেছা খাতুন এবং পোলিং কর্মকর্তা মাসুম খান ও সালমা আক্তারকে প্রত্যাহার করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও শ্রীপুর উপজেলা নির্বাচনী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যাহার হওয়া তিনজনের মধ্যে হারেছা খাতুন গিলাশ্বর বালিকা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক, সালমা আক্তার দক্ষিণ ভাংনাহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং মাসুম খানের কর্মক্ষেত্রের নাম এখনও জানা যায়নি। তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও নির্বাচনী নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
টেন্ডার ভোটের ব্যবস্থা
সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সজীব আহমেদ বলেন, "একজন ভোটার অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরে নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী, ওই নারী ভোটারের ভোট ‘টেন্ডার ভোট’ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।" টেন্ডার ভোট হলো একটি বিশেষ ব্যবস্থা, যেখানে কোনো ভোটার যদি প্রমাণ করতে পারেন যে তার ভোট অন্য কেউ দিয়ে গেছেন, তাহলে তাকে একটি পৃথক ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
এই ঘটনা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এই ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারি ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
