দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জুলেখা খাতুনের ভোটদান: ভাবির সহায়তায় গণতন্ত্রে অংশগ্রহণ
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জুলেখার ভোটদান, ভাবির সহায়তা

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জুলেখা খাতুনের ভোটদান: ভাবির সহায়তায় গণতন্ত্রে অংশগ্রহণ

ঢাকা–১১ আসনের এ কে এম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার একটি বিশেষ দৃশ্য দেখা গেছে। ৬০ বছর বয়সী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জুলেখা খাতুন সেখানে ভোট দিতে এসেছেন, যাঁকে সহায়তা করেছেন তাঁর ভাবি রাশেদা বেগম। ছোটবেলায় বসন্তরোগে আক্রান্ত হয়ে জুলেখা খাতুন দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে পিছপা হননি।

জুলেখা খাতুনের জীবন ও ভোটদানের গল্প

অবিবাহিত জুলেখা খাতুন প্রথম আলোকে তাঁর জীবনকাহিনি শোনান। তিনি বলেন, "ছোটবেলায় আমাদের বাবা মারা যান। সাড়ে ৪ বছর আগে মা মারা গেছেন। আমরা তিন ভাই–বোন ছিলাম, এক ভাই ইতিমধ্যে মারা গেছেন।" বর্তমানে তিনি ঢাকা–১১ আসনের পশ্চিম হারালদিয়া এলাকায় বড় ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস করছেন। জুলেখা খাতুনের জন্য ভোটদান কোনো নতুন অভিজ্ঞতা নয়; তিনি এর আগেও ভোট দিয়েছেন, যা তাঁর গণতান্ত্রিক সচেতনতার প্রমাণ বহন করে।

ভোটদানের প্রক্রিয়ায় জুলেখা খাতুনকে কে সহায়তা করলেন, এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তাঁর ভাবি রাশেদা বেগমই তাঁকে কেন্দ্রে নিয়ে এসে ভোট দিতে সহায়তা করেছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় জুলেখা খাতুনকে ভোট দিতে সারি ধরতে হয়নি। তাঁর হয়ে ব্যালট পেপার সংগ্রহ করেন ভাবি রাশেদা বেগম, এবং দুজন একই সঙ্গে কাপড়েঘেরা গোপন কক্ষে প্রবেশ করেন। ভোট দেওয়া শেষে ব্যালট পেপার ব্যালট বক্সে রাখা হয়, যা একটি মসৃণ ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়া হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ভাবি রাশেদা বেগমের ভূমিকা ও নির্বাচনী প্রেক্ষাপট

ভাবি রাশেদা বেগম প্রথম আলোকে বলেন, "ভোট দিতে আমি আগেও জুলেখা খাতুনকে কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিলাম। আজ আমরা একটি রিকশা নিয়ে কেন্দ্রে এসেছি।" তাঁর এই সহায়তা শুধু একটি পরিবারিক দায়িত্বই নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এটি প্রমাণ করে যে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও যথাযথ সহায়তা পেলে সমাজের মূলধারায় সম্পূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেন।

এদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬–এর ভোট গ্রহণ বৃহস্পতিবার সারা দেশে চলছে। সকাল সাড়ে ৭টায় দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে এই ভোট গ্রহণ শুরু হয় এবং বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জুলেখা খাতুনের মতো ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের শক্তি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকে তুলে ধরে।

জুলেখা খাতুনের ভোটদানের এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত গল্পই নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর বার্তা বহন করে: প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও সমাজের অপরিহার্য অংশ এবং তাঁদের অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। ঢাকা–১১ আসনে এই দৃশ্য দেখে অনেকেই উদ্বুদ্ধ হয়েছেন, যা ভবিষ্যতে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী ব্যবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে।