গোপালগঞ্জে নির্বাচনি কেন্দ্রের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক ছড়ালেও ক্ষয়ক্ষতি নেই
গোপালগঞ্জ ও টুঙ্গিপাড়ায় দুইটি নির্বাচনি কেন্দ্রের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণে কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও ককটেলের বিকট শব্দে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের দাবি, আতঙ্ক সৃষ্টি করতে কেউ কোনো পটকা জাতীয় দ্রব্য দূর থেকে ছুড়ে মেরেছে।
ঘটনার সময় ও স্থান
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৮ টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের বীণাপাণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে এবং রাত ৭ টার দিকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গুয়াদানা সিলনা বিন্দুবাসিনী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রিজাইডিং অফিসারের বক্তব্য
সরকারি বীণাপাণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার রামপ্রসাদ সরকার বলেন, "রাত সাড়ে ৮ টার দিকে কেন্দ্রের বাইরে বিকট শব্দ হয়। ধারণা করছি আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য কেউ হয়তো ককটেল নিক্ষেপ করেছে। এতে আমাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তাৎক্ষণিক বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ টিমকে জানালে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে।"
পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত
অপরদিকে, টুঙ্গিপাড়ার গোপালপুর ইউনিয়নের ভ্রাম্যমাণ ডিউটি টিমের প্রধান পরিদর্শক (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, "নির্বাচনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে রাত ৭ টার দিকে দূর থেকে কেন্দ্রের সামনে কেউ পটকা জাতীয় দ্রব্য ছুড়ে মেরেছে। এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি না হলেও কিছুটা শব্দ ও ধোয়া বের হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই সেনাবাহিনী ও পুলিশের ভ্রাম্যমান টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে শুধুমাত্র কিছুটা লাল জাতীয় টেপ পাওয়া গেছে।"
তিনি আরও বলেন, "তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। গোপালপুর ওই কেন্দ্রের সামনে পুলিশের ভ্রাম্যমান টিম বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি অভিযান করছে। এছাড়া সন্দেহভাজন কোন ব্যক্তি দেখলে তাদেরও তল্লাশি করা হচ্ছে।"
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
ঘটনার পর থেকে নির্বাচনি কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ভ্রাম্যমাণ টিমগুলো সক্রিয়ভাবে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হলেও কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে।
এই ঘটনা ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে, নির্বাচনি প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে চলছে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
