নোয়াখালীতে নির্বাচনী হামলায় ধানের শীষের নারী কর্মীসহ দুইজন আহত
নোয়াখালীতে নির্বাচনী হামলায় দুইজন আহত

নোয়াখালীতে নির্বাচনী সহিংসতায় দুইজন আহত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলায় পৃথক হামলার ঘটনায় ধানের শীষের এক নারী কর্মীসহ দুইজন ব্যক্তি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন। আজ বুধবার সন্ধ্যায় এই দুটি ঘটনা ঘটে, যা নির্বাচনী পরিবেশে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

সুবর্ণচরে নারী কর্মীর ওপর হামলা

সুবর্ণচর উপজেলার ছিদ্দিক বাজার এলাকায় আজ সন্ধ্যায় ধানের শীষের নারী কর্মী তানিয়া আক্তার (২৮) একদল দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হন। নোয়াখালী-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. শাহজাহানের মিডিয়া সমন্বয়ক জহির উদ্দিনের বর্ণনা অনুযায়ী, তানিয়া আক্তার আল আমিন বাজার থেকে থানারহাটে তার গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের দ্বারা পিটিয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন এবং পরে তাকে সড়কের পাশের খালে ফেলে পালিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাতিয়ায় যুবদল সদস্যের ওপর ছুরিকাঘাত

একই সময়ে হাতিয়া উপজেলার শিউলী একরাম বাজার এলাকায় নোয়াখালী-৬ আসনের ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য জসিম উদ্দিন (৩২) কয়েকজন দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে আহত হন। এই ঘটনায়ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাতিয়া থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, শিউলী একরাম বাজারে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে, যেখানে একজনকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত

ঘটনাস্থলে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। চর জব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লুৎফর রহমান দাবি করেন, ধানের শীষের কোনো নারী কর্মীকে মারধরের অভিযোগ কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে করেননি, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, হাতিয়া থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং দুই পক্ষকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই হামলাগুলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নির্বাচনী সহিংসতা রোধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন। আহত ব্যক্তিদের অবস্থা এখনও গুরুতর বলে জানা গেছে, এবং হাসপাতাল সূত্রে তাদের চিকিৎসা চলছে। নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এই ঘটনার পূর্ণ চিত্র প্রকাশ করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।