যশোরে ৬টি সংসদীয় আসনে ৩৬ প্রার্থীর লড়াই, অধিকাংশের পোলিং এজেন্ট সংকট
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে বিএনপি ও জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ছাড়া বাকি অধিকাংশ প্রার্থীই কর্মী সংকটে ভুগছেন। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ও নির্বাচনি আচরণ বিধি অনুযায়ী একজন প্রার্থী প্রত্যেক ভোট কক্ষে একজন পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিতে পারলেও, এসব প্রার্থীর সেই সক্ষমতা নেই। ফলে অধিকাংশ ভোট কেন্দ্রে তাদের পোলিং এজেন্ট থাকবে না, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
প্রার্থীদের সাংগঠনিক দুর্বলতা ও ভোটারদের অপরিচিতি
সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন, সাংগঠনিকভাবে দুর্বল রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হওয়ায় তারা এই সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন। এছাড়া তারা ভোটারদের কাছেও তুলনামূলকভাবে অপরিচিত। অনেক প্রার্থীর জামানত হারানোর শঙ্কাও রয়েছে। সচেতন নাগরিক কমিটি যশোরের সভাপতি পাভেল চৌধুরীর মতে, অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন নামকাওয়াস্তে। এসব প্রার্থীদের সাধারণত দুটি উদ্দেশ্য থাকে—একটি অসৎ, অন্যটি পরিচিত হওয়া। আবেগে প্ররোচিত হয়েও কেউ কেউ প্রার্থী হন। তাছাড়া এবার পোস্টার না থাকায় অপরিচিত প্রার্থীদের ভালোভাবে চিনতেও পারছেন না ভোটাররা।
যশোরের বিভিন্ন আসনে পোলিং এজেন্টের চাহিদা
যশোরের ছয়টি সংসদ আসনের মধ্যে সবচেয়ে কম পোলিং এজেন্ট প্রয়োজন হবে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে, যেখানে একজন প্রার্থীর ৪২৫ জন পোলিং এজেন্ট দরকার। অন্যদিকে সবচেয়ে বেশি চাহিদা যশোর-৩ (সদর) আসনে, যেখানে এক হাজার ১৮৩ জন পোলিং এজেন্ট প্রয়োজন হবে। অন্যান্য আসনগুলোর চাহিদা নিম্নরূপ:
- যশোর-১ (শার্শা): ৫৭৭ জন পোলিং এজেন্ট
- যশোর-২ (চৌগাছা-ঝিকরগাছা): ৯০৫ জন পোলিং এজেন্ট
- যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর): ৮৬৯ জন পোলিং এজেন্ট
- যশোর-৫ (মণিরামপুর): ৭২০ জন পোলিং এজেন্ট
প্রার্থীদের বক্তব্য ও কৌশলগত অবস্থান
যশোর-২ আসনের বাসদ মনোনীত প্রার্থী ইমরান খান জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা ভোট কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিচ্ছেন না। ভোটের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার উপরই আস্থা রাখছেন। তিনি আশা করেন, প্রশাসন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবে। অন্যদিকে যশোর-৪ আসনে বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) মনোনীত প্রার্থী সুকৃতি কুমার মন্ডল দাবি করেন, তার প্রত্যেকটি কেন্দ্রের পোলিং এজেন্ট প্রস্তুত আছে। তবে ভোটের দিন তারা দায়িত্ব পালন করতে পারবে কিনা, সেটি নির্ভর করবে নির্বাচনি পরিবেশের উপর। কৌশলগত কারণে এখনই তারা পোলিং এজেন্টদের নাম প্রকাশ করছেন না।
যশোরের আসনভিত্তিক প্রার্থীদের তালিকা
যশোরের প্রতিটি আসনে বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যশোর-১ আসনে বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন, জামায়াতের মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান, জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল এবং ইসলামী আন্দোলনের বক্তিয়ার রহমান লড়ছেন। যশোর-২ আসনে বিএনপির সাবিরা সুলতানা, জামায়াতের মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, ইসলামী আন্দোলনের ইদ্রিস আলী, বাসদের ইমরান খান, স্বতন্ত্র জহুরুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান, বিএনএফের শামছুল হক এবং এবি পার্টির রিপন মাহমুদ প্রতিদ্বন্দ্বী। যশোর-৩ আসনে বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জামায়াতের আব্দুল কাদের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপার নিজামদ্দিন অমিত, জাতীয় পার্টির খবির গাজী এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির রাশেদ খান লড়ছেন। যশোর-৪ আসনে বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজী, জামায়াতে ইসলামীর গোলাম রসুল, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সুকৃতি কুমার মন্ডল, জাতীয় পার্টির জহুরুল হক, খেলাফত মজলিসের মাওলানা আশেক এলাহী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বায়েজীদ হোসাইন এবং স্বতন্ত্র এম. নাজিম উদ্দীন-আল-আজাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যশোর-৫ আসনে জামায়াতের গাজী এনামুল হক, বিএনপির রশীদ আহমাদ, স্বতন্ত্র শহীদ মো. ইকবাল হোসেন ও মো. কামরুজ্জামান, জাতীয় পার্টির এম.এ হালিম এবং ইসলামী আন্দোলনের জয়নাল আবেদীন লড়ছেন। যশোর-৬ আসনে বিএনপির আবুল হোসেন আজাদ, জামায়াতের মোক্তার আলী, জাতীয় পার্টির জি.এম. হাসান, ইসলামী আন্দোলনের শহিদুল ইসলাম এবং এবি পার্টির মাহমুদ হাসান প্রতিদ্বন্দ্বী।
এই সংকট নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পোলিং এজেন্টের অভাবে ভোট গণনা ও তদারকি প্রক্রিয়া দুর্বল হতে পারে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ।
