নোয়াখালী-৬ আসনে হামলার অভিযোগ: বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ১১ দলীয় জোটের সমর্থকদের বাড়িঘরে লুটপাট
নোয়াখালী-৬ আসনে হামলা: বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নোয়াখালী-৬ আসনে নির্বাচনী সহিংসতা: বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে নির্বাচনী সহিংসতার নতুন ঘটনা সামনে এসেছে। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসুদের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হামলার বিবরণ ও আহতদের অবস্থা

হান্নান মাসুদের দুজন সমর্থক জানিয়েছেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা ধানের শীষ স্লোগান দিয়ে সংঘবদ্ধভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় এই হামলা চালায়। তারা একাধিক বাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট চালায় এবং ভয়ভীতি দেখায়। এই ঘটনায় কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, তবে তাদের অবস্থা এখনও গুরুতর নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হান্নান মাসুদের বক্তব্য ও অভিযোগ

হান্নান মাসুদ সরাসরি এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, "রাতে বুড়িরচর, চর ঈশ্বর ও সোনাদিয়া ইউনিয়নের আমাদের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের স্লোগান দিয়ে হামলা চালায়, লুটপাট করে এবং বিভিন্ন জায়গায় গোলাগুলি করে। মূলত আমাদের সমর্থকদের দমন করার জন্য হামলা চালানো হয়েছে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বারবার ফোন দিলেও তারা রিসিভ করছেন না, যা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

বিএনপির প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

এ বিষয়ে বিএনপির স্থানীয় নেতাদের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিক নেতাকে ফোন করা হলেও কেউ রিসিভ করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, হামলার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, "হাতিয়ার সব জায়গায় নৌবাহিনী সদস্যরা টহল দিচ্ছেন। বিষয়টি নৌবাহিনী এবং পুলিশকে জানানো হয়েছে।" এই পদক্ষেপ নিরাপত্তা জোরদারের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই ঘটনা নির্বাচনী অঞ্চলে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ রাখতে দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।