রাজশাহীতে আগামীকাল শনিবার বিকেলে একই সময়ে কাছাকাছি দুটি স্থানে জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। একটি জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভূমিমন্ত্রী ও বিএনপির নেতা মিজানুর রহমান। আরেকটি জনসভার প্রধান অতিথি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। দুটি সভাই শুরু হবে বেলা তিনটায়।
মিজানুর রহমানের সভা
মিজানুর রহমান রাজশাহী নগরের বড়কুঠি পদ্মার পাড়ে গণজমায়েতে বক্তব্য দেবেন। এই সভা ফারাক্কা লংমার্চের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘বিশাল গণজমায়েত’ হিসেবে পরিচিত। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. রফিকুল ইসলাম। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের রাজশাহী শাখা। এতে সভাপতিত্ব করবেন সংগঠনের সভাপতি এনামুল হক।
শফিকুর রহমানের সভা
শফিকুর রহমান সেখান থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে (বর্তমানে হাজী মুহম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চবিদ্যালয়) বক্তব্য দেবেন। এই সভা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লঘব ও পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশ। অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য। এতে সভাপতিত্ব করবেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক সিরাজগঞ্জ–৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
অন্যান্য বক্তারা
ফারাক্কা দিবসের গণজমায়েতে আরও বক্তব্য দেবেন রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রাজশাহী–৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ, রাজশাহী–৩ আসনের সংসদ সদস্য বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক শফিকুল হক, রাজশাহী–৫ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান হাসান জাফির, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী, ফারাক্কা আন্তর্জাতিক কমিটির সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদার, ভাসানী পরিষদের সদস্যসচিব আজাদ খান ভাসান, হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী, রাজশাহী শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি হাসেন আলী, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) রাজশাহী শাখার সভাপতি ওয়াসিম হোসেন প্রমুখ।
আয়োজকদের প্রতিক্রিয়া
একই দিনে একই সময়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করার বিষয়ে জানতে চাইলে নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের রাজশাহী শাখার সভাপতি এনামুল হক প্রথম আলোকে বলেন, জামায়াত কোনো দিন ফারাক্কা দিবস পালন করেনি। এটা ১৬ মে জাতীয়ভাবে পালন করা হয়। তাঁদের জানা ছিল, জামায়াতের অনুষ্ঠানটা ১১ তারিখে হবে। কিন্তু জামায়াত তারিখ পরিবর্তন করে ১৬ তারিখে এনেছে। তিনি দাবি করেন, তাঁরা এপ্রিলে কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। সেটা পত্রপত্রিকায় এসেছে। ১১-দলীয় ঐক্য জোটের বিভাগীয় সমাবেশ করার তারিখ পরিবর্তন করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁরা এর প্রয়োজন মনে করেননি। তাঁরা জামায়াতের কাছে যাবেন না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের মহানগরের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মন্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ফারাক্কা দিবস তারা (নদী ও পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন) ছোট করে পদ্মার ধারে করে। এবার হয়তো অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বড় করে করছে। এটা তাঁরা আগে জানতেন না। আর ১১-দলীয় ঐক্যের সমাবেশ তাঁদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি। এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে কর্মসূচি তাঁরা অনলাইনে দেওয়ার পরে ফারাক্কা দিবসের কথা জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, জামায়াত ফারাক্কা দিবসের অনুষ্ঠান করেনি, এটা ঠিক নয়। এবারও তাঁরা বিভাগীয় সমাবেশে ফারাক্কা দিবসের আলোচনা করবেন।



