নোয়াখালীতে অবৈধ ডিজেল মজুদ: ১৪০০ লিটার জব্দ ও চারজন গ্রেপ্তার
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় একটি বড় ধরনের অবৈধ ডিজেল মজুদ কার্যক্রম উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এই অভিযানে মোট ১৪০০ লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়েছে এবং চারজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের তৎপরতায় মেঘনা পেট্রোলিয়ামের একটি ভাউচার গাড়িও আটক করা হয়েছে, যা এই অবৈধ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে, ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল সদর উপজেলার খলিফার হাটে অবস্থান করছিল। গোপন সূত্র থেকে তারা জানতে পারেন যে চরমটুয়া ইউনিয়নের উদয় সাধুর হাট দক্ষিণ বাজারের একটি দোকানে বেশি দামে অবৈধভাবে ডিজেল মজুত করা হচ্ছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে, রাত পৌনে ১২টার দিকে পুলিশ দলটি ওই বাজারে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় ১৪০০ লিটার ডিজেল এবং একটি লাল রঙের ভাউচার গাড়ি জব্দ করা হয়।
অভিযানে আটককৃত চারজন হলেন: মো. রাশেদ (৩৮ বছর), গাড়িচালক মো. নাছির উদ্দিন (৪৭ বছর), মো. শিহাব উদ্দিন (২২ বছর) এবং মো. মাকসুদ (৩২ বছর)। তারা সবাই সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, এই ব্যক্তিরা অবৈধভাবে ডিজেল মজুত ও বিক্রির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আদালতে সোপর্দ ও তদন্তের অগ্রগতি
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সর্বশেষ শনিবার (১৮ এপ্রিল) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মো. মহিনউদ্দিন জানান, এই ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত চলছে জব্দ হওয়া মেঘনা পেট্রোলিয়ামের গাড়ির এবং ডিজেলের উৎস সম্পর্কে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই অবৈধ কার্যক্রমটি একটি সংগঠিত চক্রের অংশ হতে পারে, যা স্থানীয় বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল।
এই অভিযানটি নোয়াখালী অঞ্চলে অবৈধ জ্বালানি বাণিজ্য রোধে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকার প্রতিফলন। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ধরনের কার্যক্রম বন্ধে পুলিশের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



