ঈদ সামনে রেখে ঢাকায় অপরাধ রোধে ডিএমপির কঠোর নির্দেশনা
ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানী ঢাকায় ছিনতাই, অজ্ঞান ও মলম পার্টির দৌরাত্ম্য ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার। আজ বৃহস্পতিবার ফেব্রুয়ারি মাসের অপরাধবিষয়ক পর্যালোচনা সভায় তিনি তল্লাশিচৌকি বসানোর পাশাপাশি পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন।
অপরাধ প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা
ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার সরওয়ার বলেন, "ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে হবে। ঈদের আগে বেশির ভাগ মানুষ ঢাকা ছেড়ে চলে যাবেন। এ সময়ে যেন ছিনতাই, অজ্ঞান ও মলম পার্টি বা অন্য কোনো অপরাধ সংঘটিত হতে না পারে।" তিনি সম্ভাব্য স্পটগুলোয় তল্লাশিচৌকি বসানো এবং পুলিশের টহল ও নজরদারি বাড়ানোর উপর জোর দেন।
রাজধানীর বিপণিবিতানে চাঁদাবাজদের তৎপরতা রোধে পুলিশকে সতর্ক থাকার নির্দেশনাও দেন তিনি। চাঁদাবাজি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। যানজটে ভোগান্তি কমাতে বেশি সংখ্যক ট্রাফিক সদস্য রাস্তায় থাকবেন এবং যাত্রীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল যাত্রা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।
ফেব্রুয়ারি মাসের অপরাধ সভা ও পুরস্কার বিতরণ
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত রাজধানীর শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণিতে অবস্থিত ডিএমপি সদর দপ্তরে এই মাসিক অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা বিধানে উত্তম কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করেন ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য তেজগাঁও বিভাগ সেরা হয়। তেজগাঁও বিভাগের পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান।
আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে অতিরিক্ত পদক্ষেপ
অপরাধ সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. নজরুল ইসলাম আইনশৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নতি ঘটানোর প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, "ঈদের বাজার ও শপিং মলগুলোয় স্থাপিত সিসি ক্যামেরা ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও নিশ্চিত করতে হবে।" সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই সভায় ডিএমপির বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করার মাধ্যমে তাদের কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যা ভবিষ্যতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও উৎসাহিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
