নারায়ণগঞ্জে পুলিশ কর্মকর্তার পিস্তল ছিনতাই: ২১ ঘণ্টায় উদ্ধার ও গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জে এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে গুলি ভর্তি পিস্তল ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার প্রায় ২১ ঘণ্টা পর পুলিশ ছিনতাই হওয়া পিস্তল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এ ঘটনায় মিশাল ওরফে বিশাল নামে এক ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পিস্তল উদ্ধার ও গ্রেপ্তারকৃত আসামি
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, সোমবার রাতে মিশালকে গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিবাগত রাত সোয়া ৩টার দিকে বন্দর থানার র্যালী আবাসিক এলাকার একটি ভবনের পেছনে সিমেন্টের বস্তার ভেতর থেকে ছিনতাই হওয়া পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি চাপাতি ও একটি ছোরাও জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত মিশাল নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ পানির ট্যাংকি এলাকার মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে। পুলিশ জানায়, ছিনতাইয়ের সময় তার সঙ্গে একই এলাকার জামিলের ছেলে জিয়াম ওরফে রাফি এবং ডাকু জুয়েল নামে আরও দুই সহযোগী ছিল। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও সিসিটিভি ফুটেজ
পুলিশ সুপার মুন্সী বলেন, সোমবার ভোর ৬টার দিকে শহরের নগর ভবনের সামনে দায়িত্ব পালনকালে সদর মডেল থানার আওতাধীন শীতলক্ষ্যা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই লুৎফর রহমানের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তিন সশস্ত্র ছিনতাইকারী। পরে তারা তার কাছ থেকে দুটি ম্যাগাজিনসহ গুলি ভর্তি সরকারি পিস্তল ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, নগর ভবনের সামনে দিয়ে ধীরগতিতে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন এএসআই লুৎফর রহমান। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে থাকা তিন ছিনতাইকারী তার পথরোধ করে। তারা ধারালো অস্ত্র হাতে মোটরসাইকেল থেকে নেমে এসে তার সামনে দাঁড়ায়।
রহস্যজনক বিষয় হলো, ওই সময় পুলিশ কর্মকর্তা তাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেননি, যদিও তার কাছে ১৬ রাউন্ড গুলি ভর্তি পিস্তল ছিল। বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে ছিনতাইকারীরা চাপাতি দিয়ে তার মোটরসাইকেলে আঘাত করে পিস্তলটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
তদন্ত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা
পুলিশ সুপার মুন্সী আরও জানান, পোশাক পরিহিত পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এএসআই লুৎফর রহমান বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অজ্ঞাত তিনজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। উল্লেখ্য, গ্রেপ্তারকৃত মিশালের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলাও রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে পিস্তল উদ্ধার ও আসামি গ্রেপ্তার ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে অস্ত্র ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
