স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রশংসা: নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা রোল মডেল
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা রোল মডেল: উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রশংসা: নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা রোল মডেল

সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব (এসআইএফ), আনসার, বিজিবি, কোস্ট গার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ, দায়িত্বশীল ও অনন্য ভূমিকার কারণে জাতীয় নির্বাচন প্রশংসিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ সদর দপ্তরে ‘হল অভ ইন্টেগ্রিটি’-তে পুলিশ অধিদপ্তর আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচন ইতিহাসে রোল মডেল

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে রোল মডেল হয়ে থাকবে, যা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘সেজন্য আমি পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।’

তিনি জানান, গতকাল রোববারে অনুষ্ঠিত বিশেষ কেবিনেট বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছেন। এটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পুলিশের সম্মানজনক অবস্থান উন্নয়ন

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশ যে অবস্থায় নিপতিত হয়েছিল, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পুলিশের অবস্থান আজ যথেষ্ট সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। উপদেষ্টা সেজন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন ও পুলিশের এ সম্মানজনক অবস্থানকে আরও উন্নীত করতে সচেষ্ট হওয়ার জন্য উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি পুলিশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে।

নিয়োগে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা

অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো দুর্নীতি হয়নি উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে এসব নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্তত আমার দপ্তর থেকে কোনো ধরনের তদবির করা হয়নি তা হলফ করে বলতে পারি।’

এটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি অনন্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জন্য একটি মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আইজিপি বাহারুল আলম। ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বক্তৃতা করেন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) আওলাদ হোসেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:

  • ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)-এর কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী
  • র‍্যাব (এসআইএফ)-এর মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান

উপদেষ্টা এর আগে বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং বিজিবি আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেন। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি অধিদপ্তর আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন তিনি।

এই অনুষ্ঠানগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি সরকারের সমর্থন ও প্রশংসার একটি ধারাবাহিক প্রকাশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা জাতীয় নির্বাচনের সফলতা ও নিরপেক্ষতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।