খুলনায় নির্বাচনী প্রস্তুতি: শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিতে পুলিশের বিশেষ ব্রিফিং প্যারেড
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) আগামী ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের প্রাক্কালে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার বয়রাস্থ কেএমপি লাইন্স মাঠে একটি বিশেষ ব্রিফিং প্যারেডের আয়োজন করেছে। এই প্যারেডের মাধ্যমে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের প্রস্তুতি ও মনোবল যাচাই করা হয়েছে।
কমিশনারের নির্দেশনা: পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখুন
প্যারেডের সভাপতিত্ব করেন খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান। তিনি নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের উদ্দেশ্যে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং আইনের কঠোর অনুসরণের উপর জোর দেন। সমাবেশে ভাষণ দিয়ে কমিশনার কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে। ভোটারদের অধিকার রক্ষা এবং সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দৃঢ় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বিত প্রস্তুতি
কমিশনার জাহিদুল হাসান উল্লেখ করেছেন যে নির্বাচনী নিরাপত্তায় কেএমপি নেতৃত্বদানকারী ভূমিকা পালন করবে, যেখানে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা সহায়তা করবেন। এছাড়াও, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ও আনসার বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হবে।
ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোবাইল পেট্রোল টিম এবং স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স সক্রিয় থাকবে, যাতে ভোটাররা বাধাহীনভাবে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছাতে এবং বাড়ি ফিরতে পারেন। বেশিরভাগ ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি নজরদারির আওতায় থাকবে, পাশাপাশি বডি-ওয়্যার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা শনাক্ত ও মোকাবেলা করা হবে।
ভোটারদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা
নির্বাচনী দিনে ভোটারদের সুবিধার্থে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মোবাইল পেট্রোল টিমগুলো ভোটকেন্দ্রের আশেপাশে টহল দেবে এবং প্রয়োজনমতো দ্রুত সাড়া দিতে স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত থাকবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ভোটাররা যেন কোনো বাধা বা ভয় ছাড়াই তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
কমিশনার আরও বলেন, "আমাদের মূল লক্ষ্য হলো একটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা। পুলিশ বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতির সাথে দায়িত্ব পালন করবে।" তিনি ভোটারদেরও আইন মেনে চলার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
এই ব্রিফিং প্যারেডে কেএমপির বিভিন্ন ইউনিটের শতাধিক পুলিশ সদস্য অংশগ্রহণ করেন, যারা নির্বাচনী দিনে সরাসরি দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করে কমিশনার সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
