ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় ডাকাত দলের হামলায় র্যাবের তিন সদস্য আহত হওয়ার ঘটনায় ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। গতকাল সোমবার মধ্যরাত থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। আজ বিকেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে র্যাব-৯–এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়।
আটক ব্যক্তিরা
আটক ব্যক্তিরা হলেন নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের খাগাতুয়া গ্রামের আবদুল কাদের (৬২), মো. রাহিম (২০), আবদুর রহমান ওরফে অপু মিয়া (১৮), নূর আলম (১৬) ও তাঁদের সহযোগী ছানোয়ারা বেগম (৪৮)।
সংবাদ সম্মেলন
আজ বেলা দেড়টার দিকে জেলা শহরের সরকারপাড়ায় র্যাব-৯–এর ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয়ে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় পাঁচজনকে আটক করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া র্যাব-৯-এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরনবী। পরে বিকেল পৌনে চারটার দিকে র্যাব-৯ একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠায়।
ঘটনার বিবরণ
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সোমবার বিকেল চারটার দিকে র্যাব-৯–এর গোয়েন্দা দলের চারজন সদস্য তথ্য সংগ্রহ করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের উদ্দেশে রওনা হন। নবীনগর উপজেলার মধ্য দিয়ে তাঁরা বাঞ্ছারামপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। তখন নবীনগরের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত ডাকাত শফিক মিয়া ও তাঁর লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে র্যাবের সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। হামলায় গোয়েন্দা দলের তিনজন গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে অন্য সদস্যরা স্থানীয় গ্রামবাসীর সহায়তায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করেন। পরে আহত ব্যক্তিদের নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাঁরা বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
উদ্ধার অস্ত্র ও পলাতক
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলায় ব্যবহৃত একটি রামদা, একটি দেশীয় অস্ত্র, একটি চাকু ও দুটি লোহার রড উদ্ধার করা হয়। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে শফিক ডাকাত ও তাঁর সহযোগী আবদুল হালিম (৩৪) এলাকা থেকে কৌশলে পালিয়ে যান। ডাকাত দলটি এর আগে নবীনগর থানা–পুলিশের ওপর দুবার হামলা করেছে।
মামলা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া র্যাব-৯–এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নুরুনবী বলেন, হামলার ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। মামলায় ১০-১১ জনকে আসামি করা হবে। অভিযানে আটক ব্যক্তিরা র্যাব হেফাজতে। তাঁদের নবীনগর থানা–পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। বাকিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। আটক শফিকের বিরুদ্ধে ডাকাতি, হত্যা, পুলিশের ওপর হামলা, ধর্ষণ, মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে ১৫টি মামলা রয়েছে।



