শরণখোলায় জমি বিরোধে হামলা, পাঁচ নারী আহত, ২ গ্রেপ্তার
শরণখোলায় জমি বিরোধে হামলা, পাঁচ নারী আহত

বাগেরহাটের শরণখোলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত সোমবার এক বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় এক হিন্দু পরিবারের পাঁচ নারী আহত হন। তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

মামলা ও গ্রেপ্তার

গত মঙ্গলবার শরণখোলা থানায় মামলা করেছেন গৃহকর্তা রবীন্দ্রনাথ ঢালী (৪৬)। এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আহতদের পরিচয়

আহত নারীরা হলেন রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী সীমা রানী (৩৫), মা দুলালী রানী (৭০), নানি বেলকা রানী (৯০), খালা বিমলা রানী (৬০) ও লীলা রানী (৬৫)।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেপ্তারকৃতরা

গ্রেপ্তার দুজন হলেন উপজেলার উত্তর রাজাপুর গ্রামের রাজু শিকদার ও রাজৈর গ্রামের নাইম।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য

মামলার বাদী রবীন্দ্রনাথ ঢালী বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর বসতবাড়িতে হামলা করে সবকিছু ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে তাঁর প্রতিপক্ষ। তারা টাকা, স্বর্ণালংকার, জমির দলিল ও মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে গেছে। হামলায় তাঁর বৃদ্ধা মা ও নানি গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন তাঁর স্ত্রী ও দুই খালা। তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শরণখোলা উপজেলার রতিয়া রাজাপুর এলাকার রবীন্দ্রনাথ ঢালী ও সোবহান হাওলাদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিষয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিস হয়েছে। এর আগেও জমি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে ছোটখাটো একাধিকবার ঝগড়া–বিবাদ হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রবীন্দ্রনাথের অভিযোগ

রবীন্দ্রনাথ ঢালী বলেন, ‘আমি আমার নানার কাছ থেকে ১৯৯৯ সালে জমি কিনে এখানে বাড়ি করে বসবাস করে আসছি। তবে সর্বশেষ জরিপে আমার বসতবাড়ির জমি আমার নামে রেকর্ড হয়নি। বাড়ির ১৩ শতাংশ জমি প্রতিবেশী সোবহান হাওলাদাররা দাবি করে তারা আমাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করে। এ নিয়ে আদালতে আমরা ওই খতিয়ানের মোট ৩৪ শতাংশ জমির রেকর্ড সংশোধনে মামলা করেছি। কিন্তু তারা বিভিন্ন সময় আমাদের গাছ কেটে নিয়ে যায়, দখলের চেষ্টা করে। সোমবার বহিরাগতসহ শতাধিক লোক নিয়ে এসে তারা আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর শুরু করে। ঘরের দরজা, জানালা ও বেড়া ভেঙে ফেলে এবং টিনের ছাউনি খুলে ফেলে। খবর পেয়ে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা আসার আগেই তারা সবকিছু তছনছ করে মূল্যবান মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। হামলায় আহত আমার বৃদ্ধা মা এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

অভিযোগ অস্বীকার

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সোবহান হাওলাদার ও তাঁর ছেলে মিরাজ হাওলাদার। তাঁদের ভাষ্য, ওই জমি তাঁদের ক্রয় করা সম্পত্তি। প্রতিপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক তাঁদের জমি দখল করে রেখেছেন। এখন মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, মূলত জমি নিয়ে বিরোধ থেকে ঘটনার সূত্রপাত। এ নিয়ে ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২৫ থেকে ৩০ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা হয়েছে। এরই মধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলমান।